পাবনায় হত্যা মামলার বাদীকে হুমকি, মেয়রের হেফাজতে ৪৫ গরু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২০

পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভার আমোশ গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে এনামুল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় বাদীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত এনামুলের স্ত্রী শিমা (৩২) জানান, আসামিপক্ষের লোকজন ফোনে ও লোক মারফৎ আমার পরিবারকে দেখে নেবার হুমকি দিয়ে আসছে। টাকার বিনিময়ে সব কিছু করা যাবে এ বলেও তারা হুমকি দেন। তারা আসামিপক্ষের আহত ব্যক্তিকে হত্যা করে পাল্টা হত্যা মামলা করবে বলে ফোনে শিমার ভাই মোজামকে হুমকি দেয়ারও অভিযোগ করেন।

এ দিকে নিহত এনামুলের ছেলে ও পাবনা এ্যাডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, পুলিশ আমাদের সব সময় খোঁজ খবর রাখলেও এ পর্যন্ত নামীয় আসামিদের আটক করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, মামলা হওয়ার পর পরই হত্যা মামলার আসামিরা তাদের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে লুটপাটের মিথ্যা মামলা দেবে এ খবর বুঝতে পেরে আমরা বিষয়টা মেয়রকে জানাই। আসামিরা নিজেদের মালামাল অন্যত্র হস্তান্তরের সময় মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রাং তা নিজের দায়িত্বে নিয়ে নেন।

এদিকে হত্যার ঘটনায় ১১ আগস্ট সাঁথিয়া থানায় মামলা হলে (যার নং ১৩) আসামিরা ঘর বাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। বাড়িতে পালনকৃত গরু ও আসবাবপত্র নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তারা। লুটপাটের আশংকায় আসামিরা লোক মারফৎ নিজেদের গরু সাঁথিয়া পৌর মেয়রের জিম্মায় দেন। মেয়র মিরাজুল ইসলাম তাদের ১৫টি বাচ্চুরসহ ৪৫টি গরু নিজ বাড়িতে নিয়ে লোক রেখে তা দেখাশোনা করছেন।

হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবলুর মেয়ে সুলতানা খাতুন বলেন, মামলার পরে বাড়ির সবাই পলাতক হলে আমি গরু-বাছুর নিয়ে লুটপাটের আশংকা করি। পরে মেয়রকে ডেকে আমাদেরসহ অন্য আসামিদের গরু তার জিম্মায় দিয়ে দেই। গত শনিবার মেয়রের বাড়িতে গিয়ে আমাদের ৯টি গরু দেখে এসেছি।

সোমবার দুপুরে সরেজমিন এ ঘটনাস্থল আমোশ গ্রামে গেলে দেখা যায় আসামিরা বাড়িতে তালা লাগিয়ে পালিয়েছে। তাদের আত্বীয়-স্বজনরা এসে বাড়ি পাহারা দিচ্ছে।

সাঁথিয়া পৌর মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক জানান, আসামিদের আত্বীয় স্বজনরা লুটপাটের ভয়ে তাদের রেখে যাওয়া গরু আমার জিম্মায় দেন। এলাকার পরিবেশ শান্ত হলে স্ব-স্ব ব্যক্তিকে তাদের গরু বুঝিয়ে দেয়া হবে।

সাঁথিয়া থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের আটকের জোর চেষ্টা চলছে। খুব শিগরই একটা ভালো খবর পাবেন আপনারা। এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, সাঁথিয়া পৌরসভাধীন আমোশ গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে গত ১ আগস্ট (ঈদের দিন) রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয় ৭ জন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত রোগী এনামুলকে রাজশাহী হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ আগস্ট এনামুলের মৃত্যু হয়। তিনি আমোষ গ্রামের মৃত তফিজ শেখের ছেলে। ওই দিনই তার ভাই কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাাঁথিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। অপর গুরুতর আহত আকরাম শেখ চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।