নেত্রকোনায় ট্রলারডুবি, আরও দুই মরদেহ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৩:৫০ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ট্রলারডুবির ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে এক শিশুসহ আরও দুইজনের লাশ নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে চারজনকে নিখোঁজ রেখেই বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে স্থানীয় প্রশাসন। এ ঘটনায় এনিয়ে মোট ১২ জনের লাশ উদ্ধার হলো।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রতন মিয়া (৩৫) ও মনিরা আক্তার (৪) নামে আরও দুইজনের মরদেহ নদীতে ভেসে উঠলে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কলমাকান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল করিম।

এলাকাবাসী ও খুঁজতে আসা স্বজনদের দেয়া তথ্যমতে এখনও নিখোঁজ আছেন, ইনাতনগরের ফাতেমা আক্তার (৪৫) ও মোফাজ্জল হোসেন।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে আসা ডুবুরি দল উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ থেকে বিআইডব্লিউটিএ এর একটি ডুবুরি দল নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালিয়েও নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যর্থ হয়।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, কলমাকান্দার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, কলমাকান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল করিম ও কলমাকান্দা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম। তদন্ত কমিটিকে ঘটনার কারণ সম্পর্কে সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেয়া জন্য বলা হয়েছে।

বুধবার নৌ-দুর্ঘটনায় উদ্ধার হওয়া মৃতরা হলেন, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার মধ্যনগর থানার কামাউড়া গ্রামের শিশু আল মুজাহিদ (৩), টুম্পা (৪), জাহিদ-আড়াই বছর, অনিক (৫), রাকিবুজ্জামান (২), মজিদা বেগম (৫১), সুলতানা (৪০), মোছা. লাকী বেগম (৩০), লুৎফুন্নাহার (২৫) ও নেত্রকোণা সদর উপজেলার মেদনী গ্রামের হামিদা বেগম (৫০)।

জেলা প্রশাসক কাজী আবদুর রহমান বলেন, ২৪ ঘণ্টা নাগাদ নেত্রকোনা, কলমাকান্দা, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের ৪টি ইউনিটের ৭ জন ডুবুরিসহ ২৭ জন কর্মী উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো খোঁজ মিলেনি। এখন তাদের খোঁজ পাওয়ার আর কোনো আশা না থাকায় উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করেছি। তবে শুক্রবার দুপুরে এক শিশুসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এইচ এম কামাল/এমএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]