কদিন পরই বাড়ি ফেরার কথা ছিল ফরিদের, ফিরলেন লাশ হয়ে
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের চরপাড়াতলা গ্রামের এমদাদুল হকের পাঁচ ছেলে-মেয়ের মধ্যে শেখ ফরিদ ছিলেন সবার বড়। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহকারী পদে মাস্টাররোলে কাজ করতেন তিনি। বাবাকে ফোন করে জানিয়েছেলেন কয়েকদিন পরই বাড়ি আসবেন। এলেনও তিনি। তবে কফিনবন্দি লাশ হয়ে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন শেখ ফরিদ। গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজ পড়ার সময় বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ছয়দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে হার মানলেন তিনি। তার মৃত্যুতে পরিবারের সুখ-স্বপ্নেরও মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে তার মরদেহ পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী চরপাড়াতলা গ্রামে আনা হলে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাকে শেষবারের মতো দেখতে ছুটে আসেন এলাকাবাসী।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। বৃষ্টিতে ভিজে শত শত এলাকাবাসী তার জানাজায় অংশ নেয়।

এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা শেখ ফরিদের পরিবার। তার বাবা এমদাদুল হক বলেন, আমার ছেলে সব সময় সংসারের চিন্তা করতো। সব সময় বলতো- বাবা চিন্তা করো না। আমি ভাইবোনদের লেখাপড়া করাবো। সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাবো। কিন্তু কী থেকে কী হয়ে গেল। এ শোক আমি কীভাবে সইবো!
নূর মোহাম্মদ/আরএআর/জেআইএম