প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে শহীদ মিনার ভেঙেছেন সভাপতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ০৫:৫০ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঝালকাঠির সুগন্ধা পৌর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন মৌসুমী কেকার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে শহীদ মিনার ভেঙে অবৈধভাবে স্টল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয় মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক রিতা মন্ডল এ অভিযোগ করেন।

এ সময় নবগঠিত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গাজী সানাউল হক, সাবেক পৌর কমিশনার মোফাজ্জেল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সুগন্ধা পৌর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিতা মন্ডল বলেন, গণপূর্ত বিভাগের কাছ থেকে ২০০৬ সালে তিন লাখ ৩৩ হাজার ৬০০ টাকা ট্রেজারি চালানের বিনিময়ে ৩০ শতাংশ জমি লিজ নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই স্থানটিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ ও শহীদ মিনার ছিল। বিদ্যালয়ের মাঠ নষ্ট করে ও শহীদ মিনার ভেঙে কখনই স্টল করার মানসিকতা ছিল না। বিভিন্ন সময়ে স্টল নির্মাণের প্রস্তাব আসলেও আগ্রহ না থাকায় কখনও তা সমর্থন করিনি। আওয়ামী লীগ নেত্রী শারমিন মৌসুমী কেকা বিদ্যালয়ের সভাপতির আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে বলতেন ‘আমি যা করি, তা আমার এমপি আমু ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই করি।’ এসব কথা বলে চাপ প্রয়োগ করে স্টল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেন। সেই সিদ্ধান্তে স্টল নির্মাণ ও বরাদ্দে শর্তাবলী দেয়া হলেও সভাপতি কেকা সেই শর্তাবলী উপেক্ষা করে শহীদ মিনার ভেঙে স্টল নির্মাণের কাজ শেষ করেন। এমপির দোহাই দিয়ে কথা বলার কারণে তার বিরুদ্ধে কোথাও কোনো আলোচনা বা জানানোর সুযোগ হয়নি।

গত ২৫ জুলাই একটি সভায় ব্যাংকে যৌথ অ্যাকাউন্ট খোলা, স্টল সংক্রান্ত যাবতীয় টাকা অ্যাকাউন্টে জমা ও উত্তোলন করে খরচ বহন করা হবে, স্টল বরাদ্দের জন্য আবেদন করলে তা যাচাই-বাছাই করে বরাদ্দ দেয়া ও স্টল গ্রহিতার সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চুক্তি সাক্ষর সম্পাদন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সকল সিদ্ধান্ত না মেনে তিনি নিজ ইচ্ছায় স্টল নির্মাণের কাজ চালিয়ে যান।

প্রধান শিক্ষক রিতা মন্ডল বলেন, বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভাঙা বা স্থানান্তরের জন্য কোথাও কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তিনি শহীদ মিনার ভেঙে সেখানে প্রধান শিক্ষকের ওপর দায় চাপিয়ে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে ফাঁদে ফেলার চক্রান্ত করেন। সভাপতি তার ব্যবসায়ীক পার্টনার ও বিএনপি নেতা আনিচুর রহমান তাপুকে সঙ্গে নিয়ে তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিলেন। গত ২৮ জুলাই সভাপতি শারমিন মৌসুমী কেকা আমার স্বাক্ষর জাল করে একটি রেজুলেশন করেন। যা অবৈধ, বেআইনি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কয়েক মাসের মধ্যে সভাপতি পরিবর্তন হলে বর্তমান কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।

সভাপতি মুঠোফোনে এমপি আমির হোসেন আমুকে জানালে তিনি এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং বেআইনি স্টল নির্মাণ করে থাকলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও নির্দেশ দেন এমপি। নির্দেশনা অনুযায়ী নবগঠিত কমিটি গত ৬ সেপ্টেম্বর জরুরি সভা করে স্টল সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত বাতিল করে। স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেজুলেশন করায় ১৩ সেপ্টেম্বর সদর থানায় জিডি করলে এসআই ফিরোজ আলম বিষয়টি তদন্ত করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেন, কেকা ও তাপু অনেক সময় বিকেলেও স্কুলের মধ্যে ঢুকে নৈশ প্রহরীর কাছ থেকে চাবি নিয়ে গল্প করতেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায়ও তাপু সভাপতির সঙ্গে থাকতেন। স্টল নির্মাণ সংক্রান্ত সভায় সভাপতি কেকা বিএনপি নেতা তাপুকে সঙ্গে নিয়ে আসলে তিনি তার কোমরে থাকা একটি পিস্তল বের করে টেবিলের ওপরে রাখেন। তা দেখে তখন অনেক ভয় পেয়েছিলাম।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী সানাউল হক জানান, এমপি আমির হোসেন আমু আমাকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাই। কোনো ধরনের দুর্নীতির আশ্রয় না নিয়ে বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য ও অগ্রগতি করতে চাই।

আতিকুর রহমান/আরএআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]