যশোর-২

জলাবদ্ধতা নিরসন ও চাঁদাবাজি নির্মূল করতে চান এমপি মোসলেহ উদ্দিন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:১৭ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২৬
যশোর-২ আসনের এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, সমন্বিত উন্নয়ন এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি নির্মূলকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বিষয় উল্লেখ করেন।

জাগো নিউজ: ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলার কোন সমস্যাটিকে আপনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করতে চান?

ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ: ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় জলাবদ্ধতা সমস্যা রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কপোতাক্ষ নদ খনন জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বেতনা নদীও খনন করা দরকার। এই দুটি নদ-নদী খনন করা হলে দুই উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষিকাজও উপকৃত হবে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীও খাল খননের ওপরে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এজন্য জলাবদ্ধতা সমস্যাকে প্রধান্য দিয়ে প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে নদী খনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংস্কার করে এ দুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসীকে মুক্তি দিতে চাই।

জাগো নিউজ: উন্নয়নের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় কোন পদক্ষেপটি আপনি নিতে চান?

ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ: সরকার এলাকায় ছোট ছোট অনেক কালভার্ট স্থাপন করে। কিন্তু ১৫ মিটারের নিচে এই কালভার্টগুলোতে অনেক সময় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। এজন্য খালের সঙ্গে ছোট ছোট কালভার্টের সমন্বয় করা এবং সম্ভব হলে এর সঙ্গে সড়ক নির্মাণ করে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি সম্ভব হলে জলাবদ্ধতার যেমন নিরসন হবে, তেমনি এলাকার কৃষিক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফসল উৎপাদনও বাড়বে।

জলাবদ্ধতা নিরসন ও চাঁদাবাজি নির্মূল করতে চান এমপি মোসলেহ উদ্দিন

জাগো নিউজ: এলাকার সঙ্কট নিরসন বা উন্নয়ন নিয়ে আর কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?

ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ: সরকারেরতো আনলিমিটেড বাজেট নেই। তারপরও সরকার কিন্তু অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে। বিশ্বব্যাংক বলছে, আমাদের এখানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ৩০ শতাংশ অর্থ দুর্নীতিতে চলে যায়। এছাড়া আমাদের দেশে উন্নয়ন ব্যয়ও অনেক বেশি। চীনের তুলনায় আমাদের এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে পাঁচগুণ বেশি ব্যয় হয়। অথচ আমাদের শ্রমিকদের মজুরি তাদের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। ফলে এই ব্যয়ের একটি বড় অংশ দুর্নীতিতে চলে যায়। তাই আমরা যদি দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স করে দিতে পারি, টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজিকে বন্ধ করে দিতে পারি, তাহলে ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।

চাঁদাবাজি বন্ধ হলে দ্রব্যমূল্য কমে আসবে, টেন্ডারবাজি বন্ধ হলে ভালো রেটে ভালো মানে উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হবে। আমাদের যে সম্পদ আছে, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি বন্ধ করে তা যদি ব্যবহার করতে পারি, তাহলেও কাজগুলোও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

জাগো নিউজ: আপনাকে ধন্যবাদ।

ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

মিলন রহমান/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।