সিজারের সময় মূত্রথলি-জরায়ু কেটে ফেলেন চিকিৎসক, মারা গেলেন প্রসূতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২০
মৃতের স্বজনদের কান্না

নেত্রকোনা শহরের ছোট বাজারের সুনেত্র হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসায় আইরিন পারভীন ঝর্ণা (৩৬) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।

ঝর্ণার স্বজনরা জানান, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে সুনেত্র হাসপাতালে চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণ রায় ঝর্ণার সিজারিয়ান অপারেশন করেন। দুই কন্যাসন্তানের জননী ঝর্ণা সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের নূরে আলম খোকনের স্ত্রী।

ঝর্ণার দেবর মো. আল মাসুদ ও ভগ্নিপতি আব্দুল মান্নান জানান, চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণ রায় সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ভুলবশত ঝর্ণার মূত্রথলি কেটে ফেলেন। পরে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

এরপর আবার তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন চিকিৎসক। এ সময় কেটে ফেলেন ঝর্ণার জরায়ু। এভাবে জটিলতা বাড়তে থাকে তার। সেই সঙ্গে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে তৃতীয়বারের মতো তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন চিকিৎসক। এতে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়।

অবস্থা বেগতিক দেখে সোমবার রাতে ঝর্ণাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন চিকিৎসক। পরে ঝর্ণাকে সেখানে নেয়া হয়। নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহ নেয়ার পথে ঝর্ণার শরীরে ১০ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়।

ময়মনসিংহ হাসপাতালে যাওয়ার পর সুনেত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো লোক রোগীর সঙ্গে থাকা চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সটকে পড়েন। এতে রোগীর চিকিৎসা নিতে বেগ পেতে হয়।

এ বিষয়ে সুনেত্র হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, কাগজগুলো রোগীর প্রয়োজন নেই। এগুলো হাসপাতালে রাখতে হয়। সেজন্য নিয়ে আসা হয়েছে।

death1

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। একাধিকবার তার মোবাইল নম্বরে কল দিলেও রিসিভ করেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনেত্র হাসপাতাল থেকে ঝর্ণাকে রাতে ময়মনসিংহ হাসপাতালে পাঠিয়ে দ্রুত অপর হাসপাতালে চলে যান চিকিৎসক। এ সময় ওই হাসপাতালে গিয়েও তার সঙ্গে কথা বলাও সম্ভব হয়নি।

এদিকে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঝর্ণা। বিকেল ৩টা পর্যন্ত অভিযুক্ত চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এমন ঘটনায় নেত্রকোনার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তি চেয়েছেন অনেকেই।

লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল কাদের সুজা বলেন, একজন প্রসূতি মায়ের প্রসবকালীন এক ঘণ্টার মধ্যে তিনবার ওটিতে নিয়ে অপারেশন করে মূত্রথলি, জরায়ু কেটে রোগীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া অন্যায়। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। নয়তো এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটবে।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) মুর্শেদা খাতুন বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। মৃত ঝর্ণার পরিবারের লোকজন অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণের হাতে এর আগেও একাধিক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় এমন ঘটনা ঘটেই চলছে।

এইচ এম কামাল/এএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]