জহুরা বেগমের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:২৪ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০
বসতঘরটি ভেঙে নদীরপাড়ে রেখে ভাঙন থামার অপেক্ষায় জহুরা বেগম

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের কান্দারবাড়ি গ্রামে বসবাস করেন জহুরা বেগম (৬০)। ছেলে জহিরুল ইসলাম (১৫) এবং মেয়ে সুমাইয়াকে (১৩) নিয়ে তার সংসার।

বড় দুই ছেলে বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছেন। মা এবং ছোট ভাই-বোনের খোঁজ নেন না তারা। খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে সংসার চলছে জহুরা বেগমের। কান্দারবাড়ি গ্রামের মৃত খালেক সারেংয়ের স্ত্রী জহুরা বেগম।

গত ২০ দিনে কান্দারবাড়ি গ্রামের শতাধিক পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছেন। কিন্তু জহুরা বেগমের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। বসতঘরটি ভেঙে নদীরপাড়ে রেখে ভাঙন থামার অপেক্ষায় তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, যে স্থানে জহুরার ঘরটি ছিল সেই স্থানের অর্ধেক ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটার পাশে তার পুরোনো ঘরটি ভেঙে মাটির সঙ্গে টিনের চাল দুটি রেখে মাঝে চৌকি বসিয়ে কোনোমতে থাকছেন তারা।

ছেলে-মেয়েকে নিয়ে নদীভাঙনের আতঙ্কে রয়েছেন তিনি। যেকোনো সময় নদীগর্ভে চলে যাবে তার ঘর ও ভিটেমাটি। এ অবস্থায় কোথায় যাবেন তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই তার।

জহুরা বেগমের তিন ছেলে। বড় দুই ছেলে বিয়ে করে সংসার গড়েছেন অন্যত্র। মায়ের খোঁজ নেন না তারা। ছোট ছেলে জহিরুল দিনমজুরের কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে জহুরার সংসার।

জহুরা বেগম জানান, ২০ বছর আগে তাদের সব কেড়ে নিয়েছে নদী। তারপর টঙ্গিবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান জগলুল হালদার তাদের এ সরকারি জমিতে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেন।

কিন্তু বর্তমানে আবার এ স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীভাঙা শুরু হলে গ্রামের প্রায় সব মানুষ অন্যত্র চলে গেলেও তার যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। নদীরপাড়ে ভাঙা ঘর রেখে ভাঙন থামার অপেক্ষায় তিনি।

জহুরা বেগম বলেন, নদীভাঙন থামলে ঘরটি যে ভিটায় ছিল সেখানে তুলে বসবাস করব। ঘর ভাঙার পর খুঁটিগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন খুঁটি কেনার টাকা নেই আমার।

তিনি বলেন, ছোট ছেলে দিনমজুরের কাজ করে যা পায় তা দিয়ে ঠিকমতো সংসার চলে না। খুঁটি কিনব কীভাবে? নদী সব ভেঙে নিয়ে গেলে কোথায় যাব জানি না।

এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]