১ লাখ ৮৪ হাজার ভোট পেয়ে নৌকার রেকর্ড, ধানের শীষ ৮৭৪

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ১০:২৫ এএম, ২১ অক্টোবর ২০২০
শিবচর উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন ভোটার

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে বাড়ির পাশের কেন্দ্র ছাড়া কোনো কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারেননি বিএনপির প্রার্থী। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোট কেন্দ্রগুলোতে সরেজমিনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল লতিফ মোল্লা নৌকা প্রতীকে এক লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা আক্তার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭৪ ভোট।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিবচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচজন পুলিশ ও ১২ জন আনসার সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়।

পাশাপাশি র্যাবের চারটি টহল টিম, তিন প্লাটুন বিজিবি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ১৩টি টিমসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ছিল।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। উপজেলায় এক লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ পুরুষ ও এক লাখ ২৬ হাজার ৬০৫ জন নারী ভোটার। সবমিলে মোট দুই লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৫ জন ভোটার।

উপজেলার ১০১ ভোট কেন্দ্রের ৫১৩ বুথে ভোট দেন ভোটাররা। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মোল্লা ও ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা আক্তারের বাড়ির সামনের আর এম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর আড়াইটার দিকে গিয়ে দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থীর চারজন এজেন্ট রয়েছেন। এজেন্ট নূর জাহান, আব্দুল লতিফ, নুরুল ইসলামের কাছে ভোট কেন্দ্রের পরিস্থিতির কথা জানতে চাইলে তারা জানান, সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে। কোনো ঝামেলা হয়নি।

বিএনপি প্রার্থীর বাড়ি থেকে এক-দেড় কিলোমিটারের মধ্যে আরও তিনটি কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলো হলো- ৩১ নম্বর খাড়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, সাড়ে ১১ রশি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ও ৩৩ নম্বর সাড়ে বিশ রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে গিয়ে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের দেখা যায়নি।

Shibchar-Upazila-Election

বাড়ির কাছে হওয়া সত্ত্বেও এসব কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী যাননি বলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সময়ে পৌরসভা,পাচ্চর, সন্ন্যাসীরচর, উমেদপুর, বহেরাতলা ও বাশকান্দিসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে কেন্দ্রগুলোতে বিএনপির এজেন্ট দেখা যায়নি।

বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা আক্তারের বাড়ির সামনের আর এম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এজেন্ট নুরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে কেন্দ্রে আছি, কোনো সমস্যা হয়নি। সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়েছে।

এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে উভয় প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।

এই এলাকার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মিরাজ লপ্তি বলেন, বাড়ির কাছাকাছি কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি প্রার্থী আসেননি। এমনকি ঠিকমতো ভোটের প্রচারণাও চালাননি।

সাড়ে এগার রশি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই কেন্দ্রে বিএনপির কোনো এজেন্ট আসেননি।

৩১ খাড়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, আমার কেন্দ্রে চারজনের তালিকা দিলেও বিএনপির একজন এজেন্ট এসেছিলেন। বিএনপি প্রার্থী এই কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে বিএনপির এজেন্ট দুপুরে খাওয়ার কথা বলে চলে গেছেন, আর আসেননি।

এদিকে, দুপুরে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা মিঠু বলেন, ভয়ভীতি দেখানোর কারণে এজেন্টরা কেন্দ্রে যেতে পারেননি। সারাদিন খোঁজখবর নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফলাফল বর্জন করেছি।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, বিএনপির বিগত দিনের কার্যকলাপের কারণে বেশিরভাগ কেন্দ্রে এজেন্ট দেয়ার মতো লোক খুঁজে পায়নি।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রহিমা খাতুন বলেন, করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি ও নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শিবচরে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

এ কে এম নাসিরুল হক/এএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]