১১ বছর ধরে পূজা হয় না ঠাকুরগাঁওয়ের এক মন্দিরে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৮:৩৮ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২০

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঠাকুরগাঁওয়ে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও ইসকন সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় শ্রী শ্রী রসিক রায় জিউ মন্দির এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ কারণে গত ১১ বছর ধরে পূজা হয় না এ মন্দিরে।

বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ গ্রামের এ মন্দির এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রায় ১০০ বছর আগে জমিদার বর্ধামনি চৌধুরাণী আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ এবং ভাতগাঁও মৌজা এলাকায় শ্রী শ্রী রশিক রায় জিউ মন্দির নির্মাণ করেন। এছাড়াও মন্দির পরিচালনার জন্য ওই জমিদার আরও ৮১ একর সম্পত্তি দান করেন। সম্প্রতি মন্দিরের আয়-ব্যয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এরপর আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) রশিক রায় জিউ মন্দির পরিচালনা করার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

২০০৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এক সভায় মন্দিরের দায়িত্ব পূজা উদ্যাপন কমিটি চায়। কিন্তু ইসকন রাজি হয়নি। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া হয়। এতে ফুল বাবু নামে একজন নিহত হন। এরপর থেকে ১১ বছর ধরে পূজা হয় না ওই মন্দিরে।

তিনি আরও বলেন, অন্য বছরের মতো এবারও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরের বাইরে দুর্গাপূজা উদযাপনের আয়োজন করে। অন্যদিকে ইসকন মতাদর্শীরা মন্দিরের ভেতরে দুর্গাপূজা পালনের প্রস্তুতি নেয়। এতে সনাতন ও ইসকন সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এমন আশঙ্কা করে রসিক রায় জিউ মন্দির এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পূজা শেষ হলে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ওসি তানভিরুল ইসলাম বলেন, ১৪৪ ধারা জারি করার পর থেকে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এমএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]