বৈরী আবহাওয়ায় বসানো গেল না ৩৪তম স্প্যান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:৫৮ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২০
ফাইল ছবি

বৈরী আবহাওয়ার কারণে পদ্মা সেতুতে বসানো যায়নি ৩৪তম স্প্যান ‘টু-এ’। শনিবার সেতুর মাওয়া প্রান্তে ৭ ও ৮ নম্বর পিয়ারের ওপর স্প্যানটি বসানোর কথা ছিল। কিন্তু বিকেল ৫টার দিকে স্প্যান বসানোর কাজ এ দিনের মতো বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) মো. আব্দুল কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বেলা ১১টায় কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি ভাসমান ক্রেনের সাহায্য নির্ধারিত পিয়ারে অভিমুখে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়ো বাতাসের কারণে পরবর্তীতে বেলা ১টা ও ২টায় দুই দফা সময় পরিবর্তন করা হয়। আরও দেড় ঘণ্টা বিলম্ব হয়ে বেলা সাড়ে ৩টায় রওনা হয়ে সাড়ে ৪টায় স্প্যানবাহী ক্রেনটি পিয়ারের কাছে পৌঁছে।

এরপর বেলা ৫টায় ক্রেনটি নোঙর করা হলেও ঝড়ো বাতাসের কারণে স্প্যানটি উপরে তোলা যায়নি। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে স্প্যানটি বসানো হবে। স্প্যানটি বসে গেলে দৃশ্যমান হবে সেতুর ৫.১ কিলোমিটার অংশ।

পদ্মা সেতু সূত্রে আরও জানা গেছে, ৩৪তম স্প্যানের পর আগামী ৩০ অক্টোবর ২ এবং ৩ নম্বর পিয়ারের ওপর ৩৫তম স্প্যান, ৪ নভেম্বর ৩৬তম স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আর আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল স্প্যান বাসানোর নির্দেশনা রয়েছে সেতু সচিবের।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হয় ৩৩টি স্প্যান। এতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর চার হাজার ৯৫০ মিটার অংশ।

৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে সবকটি পিয়ার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।

মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে।

বিএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]