শ্বশুরবাড়ির এলাকায় হালচালই আলাদা ছিল ‘নবাবের নাতির’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ১১:৩৭ এএম, ০৪ নভেম্বর ২০২০

চুয়াডাঙ্গার জামাই হওয়ার মধ্যেও রয়েছে আসকারীর ছলচাতুরি। অন্যের স্ত্রী মেরিনা আক্তার হেনাকে ফুঁসলিয়ে নিজের করে নেন আসকারী। তার অফিসেরই সজিব নামের একজনের স্ত্রী ছিলেন মেরিনা আক্তার হেনা। প্রথমপক্ষে রয়েছে এক ছেলে।

নবাব সল্লিমুল্লাহর নাতি সেজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ঢাকায় গ্রেফতার আলী হাসান আসকারী ও তার স্ত্রী চুয়াডাঙ্গার সবুজপাড়ার মেরিনা আক্তার হেনা ও হেনার ভাই জনির বিরুদ্ধে চুয়ডাঙ্গা সদর থানায় মামলা রুজু করা হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি দেয়ার নামে আসকারী তার স্ত্রী-শ্যালকের সহযোগিতায় দামুড়হুদার বিষ্ণুপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে তিন দফায় ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এ অভিযোগ তুলে রফিকুল ইসলাম মামলা দায়ের করলে সদর থানা পুলিশ সোমবার কোর্ট রোড থেকে গ্রেফাতর করে জনিকে।

নবাব পরিবারের ছেলে পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া আলী হাসান আসকারী সারা দেশে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দুবাইয়ে তার স্বর্ণের কারখানা ও সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজবেথ হাসপাতালের অংশিদার বলেও প্রতারণা করেছেন তিনি।

আসকারী যেভাবে চুয়াডাঙ্গার সবুজপাড়া এলাকার জামাই :

এ বিষয়ে জানতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মেরিনা আক্তার হেনার সঙ্গে সরাসারি কথা বলতে না পারলেও তার প্রতিবেশীসহ নিকট আত্মীয়দের কয়েকজন বলেছেন, আনুমানিক ১৩-১৪ বছর আগে হেনার সঙ্গে বিয়ে হয় সজিব নামের একজনের। সজিব ঢাকাতেই থাকতেন। ওই সজিব চাকরি করতেন আসকারীর এক অফিসে।

‘মিস্টার ক্যাশ’ নামে ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে গিয়ে সজিব হারান তার স্ত্রী মেরিনা আক্তার হেনাকে। হেনা ওই সময় আসকারীর নজরে পড়ে যান। নানাভাবে ফুঁসলিয়ে প্রথম স্বামীর সংসার ত্যাগ করিয়ে নিজেই বিয়ে করেন হেনাকে।

পরে আসকারী যখন চুয়াডাঙ্গার সবুজপাড়ার শ্বশুরবাড়িতে আসতেন তখন তার হালচাল দেখে সমালোচনাও হয়েছে বিস্তর। মসজিদে জন্মদিনের কেক কাটতে গিয়ে আসকারীকে প্রতিরোধের মুখেও পড়তে হয়।

কিছুদিন আগে মেরিনা আক্তার হেনা কন্যা সন্তান প্রসব করেন। এ খবর পেয়ে আসকারী চুয়াডাঙ্গায় আসেন। তিনি কয়েকদিন ধরে এলাকায় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করে উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তোলেন। হেনার এক আত্মীয়ের বাড়িতে সপ্তাহ জুড়ে চলে উৎসব।

চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় ফেরার পরপরই গত ২৮ অক্টোবর বুধবার আসকারী তার ৫ সহযোগীসহ ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের ইকোনমিক ক্রাইম ও হিউম্যান ট্রাফিক পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। প্রকাশ পায় আসকারীর নানা অপকর্ম।

এরপরই চুয়াডাঙ্গার যারা তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন তাদের কেউ কেউ মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেন। এদেরই একজন দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুরের রফিকুল ইসলাম।

তিনি তার বোনের চাকরির জন্য আসকারীকে প্রথম চেকের মাধ্যমে ৭ লাখ ও পরে আসকারীর স্ত্রী-শ্যালকের মাধ্যমে দু’দফায় তিন লাখ করে আরও ৬ লাখ টাকা দেন। মোট ১৩ লাখ টাকা প্রতারণার শিকার হয়ে রফিকুল মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।

জনিকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি আসকারীকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্টেরও আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই আহসানুর রহমান। জনিকে রিমান্ডের আবেদনও জানানো হয়েছে।

সালাউদ্দীন কাজল/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।