ভালোবাসা ও সহমর্মিতার প্রচারে ‘ভালোবাসার মঞ্চ’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ০৬ নভেম্বর ২০২০

জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে, হিংসা বিদ্বেষ ও হানাহানি বন্ধ করে ভালোবাসার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে অরাজনৈতিক সংগঠন ভালোবাসার মঞ্চ।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে সমাজের মানুষের মাঝে ভালোবাসার প্রচার ও প্রসার ঘটানো। হিংসা বিদ্বেষ ভুলে ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করা, মানুষের কল্যাণের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেয়া। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে ভালোবাসার মঞ্চের কর্মীরা।

২০১৩ সালে নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠা করা হয় অরাজনৈতিক এ সংগঠন ভালোবাসার মঞ্চ। প্রতিষ্ঠা করেন নিউইয়র্কের মেয়র অফিসের (ব্যবস্থাপনা ও বাজেট) সহকারী পরিচালক সৈয়দ খাজা ওমায়ের হাসান। এখন সংগঠনটির কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ, আমেরিকা, কানডা, স্পেন, সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান ও ওমানে। এছাড়া উসবেকিস্তান ও তুর্কিতে সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হবে দ্রুত।

ভালোবাসার মঞ্চ এখন সাংগঠনিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কার্যক্রম ছড়িয়েছে দেশের ছয়টি জেলায়। ভালোবাসার মঞ্চ বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় সাত সদস্য বিশিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ড রয়েছে। বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ খাজা ওয়ায়ের হাসান ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ফারুক, সাংগঠণিক সম্পাদক আব্দুল বারী ওপেল।

valobaser-moncho-3

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বারী ওপেল জানান, ভালোবাসার মঞ্চ একটি আদর্শ ভিক্তিক সংগঠন। ভালোবাসার মঞ্চ মানুষকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে। ভালোবাসার মানুষ তৈরি করার জন্য নিয়মিত আলোচনা সভার আয়োজন করে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, করোনা মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আত্মমানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকা, রোহিঙ্গাদের মাঝেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ভালোবাসার মঞ্চ।

প্রতিবছর রমজান মাসজুড়ে দরিদ্রের জন্যে ইফতারের ব্যবস্থা করা, মৌসুমি ফল বিতরণ, ঈদ খাদ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে কুরবানির মাংস বিতরণ করে।

তিনি বলেন, সমাজের সকল স্তরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। ভালোবাসার মঞ্চ আগুন নিয়ন্ত্রণে আলোচনা সভা ও মহল্লায় ট্রেনিংয়ের আয়োজন করে থাকে। ভালোবাসার মানুষ, সমাজ, দেশ ও পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে বিশ্ববাপী ভালোবাসার মঞ্চ এগিয়ে চলছে। ভালোবাসার প্রচার ও প্রসারই ভালোবাসার মঞ্চ এর মূল মন্ত্র। ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে দেশের মাটি ও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত করার নামই ভালোবাসার মঞ্চ।

valobaser-moncho-5

ভালোবাসার মঞ্চ বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির খান জানান, বর্তমানে রাজধানীতে ২৭/এ আবুল হাসনাত রোডে ভালোবাসার মঞ্চের কার্যালয় থেকে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের ঢাকা, সিলেট, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও নরসিংদীতে ভালোবাসার মঞ্চের কার্যক্রম চলমান। ভালোবাসা মঞ্চের মূল উদ্দেশ্যে সহমর্মিতা ও ভালোবাসা প্রদর্শন। সহমর্মিতা ও ভালোবাসা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যে কোনো দুর্যোগ দুর্দিনে।

সংগঠনটির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এস.এম আকরামুল ইসলাম। তিনি বলেন, সহমর্মিতা ও ভালোবাসা নিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো, দুস্থ অভাবিদের সহযোগিতা করা, টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে না পারা মানুষদের সুচিকিৎসা পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা, সমাজ থেকে হানাহানি বন্ধ করে হিংসা বিদ্বেষ ভুলে একে অপরের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে ভালোবাসার মঞ্চ।

ভালোবাসার মঞ্চ শুরুর গল্পটা জানিয়ে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা নিউইয়ার্ক প্রবাসী সৈয়দ খাজা ওমায়ের হাসান জানান, ২০১৩ সালে আমার মুসাফির খানায় এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্ডিয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের প্রায় দুই শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। আমি বক্তব্যে বলেছিলাম, কিভাবে আমরা আল্লাহ রাসূল মুহাম্মাদুর রাসুল্লার (সা:) ভালোবাসার আদর্শ থেকে সরে এসেছি। সালাম আর ঈমান উভয়ই শান্তি থেকে এসেছে, নবী (সা:) এসেছেন পুরো জাহানের জন্য রহমত হয়ে। তার চরিত্র ছিল দয়া, মায়া, ভালোবাসা আর সহমর্মিতায় ভরপুর। আজকাল আমরা মসজিদ আর মাদরাসা নিয়েই ব্যস্ত, তবে তার চরিত্রে রূপায়িত মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সাংগঠনিকভাবে এই ভালোবাসার প্রচার নেই। সেই অনুষ্ঠানেই দেখলাম অনেকের হাত উত্তেলিত করে বললেন সৈয়দ সাহেব আপনার নেতৃত্বে গড়ে তুলুন সেই ভালোবাসার সংগঠন। সেই অনুষ্ঠান থেকেই তৈরি হয় ফান্ড। নিউইয়র্কে পর পর দুটো সেমিনারের মাধ্যমে শুরু হয় ভালোবাসার মঞ্চের পথচলা।

valobaser-moncho-5

ভালোবাসার মঞ্চ কি এবং কেন আপনি এই সংগঠনে যুক্ত হবেন জানিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ খাজা ওমায়ের হাসান বলেন, দল-মত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, ভালোবাসার মঞ্চ বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে ভালোবাসার এবং সহমর্মিতার প্রচারে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ভালোবাসার মঞ্চের সদস্যের যাত্রা শুরু হয় নিজের আত্বশুদ্ধির মধ্য দিয়ে। নিজের আমিত্ব, অহংকার, রাগ, হিংসা বিদ্বেষকে ছেড়ে দিয়ে নিজেকে নমনীয় করা, নিজের উজ্জ্বল চরিত্র, স্বেচ্ছাসেবা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে মানবকল্যাণে অন্যকে আলোকিত করা।

নিজের পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজে পরিবর্তন নিয়ে আসা। মনে রাখতে হবে যদি আচারে ব্যবহারে আকৃষ্ট হয়ে চার পাশের মানুষ মঞ্চে ভিড় না জমায় তাহলে বুঝে নিতে হবে যে, আপনার পরিবর্তন আসেনি। ভালোবাসার শিখা দিয়ে শিখা জ্বালাতে আপনি ব্যর্থ। নিজের আত্মশুদ্ধি প্রয়োজন সবার আগে। ভালোবাসা আর সহমর্মিতার প্রচারই আমাদের প্রধান উদেশ্য। আর তা হতে হবে দল-মত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে।

সৈয়দ খাজা ওমায়ের হাসান জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ, আমেরিকা, কানডা, স্পেন, সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান ও ওমানে সাংগঠনিকভাবে ভালোবাসার মঞ্চের কার্যক্রম চলমান। এছাড়া উসবেকিস্তান ও তুর্কিতে সংগঠনটির কার্যক্রম দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হবে, আলোচনা চলছে। আমরা চাই বিশ্বব্যাপী ভালোবাসার মঞ্চের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ুক। গোটা পৃথিবী হয়ে উঠুক ভালোবাসার মঞ্চ। যেখানে থাকবে না কোনো হানাহানি হিংসা বিদ্বেষ সকলেই হয়ে উঠবে ভালোবাসার মানুষ।

আকরামুল ইসলাম/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।