বিশেষ মহলকে সুযোগ দিতে চিনিকল বন্ধের ষড়যন্ত্র

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৬:৩৩ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০২০

চালু থাকলে দেশের ১৫টি চিনিকল চালু রাখতে হবে। না হলে সবই বন্ধ করে দিতে হবে। চিনিকল বন্ধ করা হলে চাষি ও কর্মচারীরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

শনিবার দুপুরে পাবনা চিনিকল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে চাষি সংগঠক ও মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা এ হুঁশিয়ারি দেন।

তারা বলেন, দেশের চিনিকল বন্ধ করার উদ্যোগ কিছু আমলার ষড়যন্ত্র। এটি সরকারের জন্য একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিক্ষোভ সমাবেশে পাঁচ দফা দাবিনামাও তুলে ধরেন তারা। আখ চাষি ও কর্মচারী নেতারা চিনিকলকে লাভজনক করার জন্য সরকারি নীতিনির্ধারকদের সব রকম সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

দেশের সুগার মিলগুলোর ক্রমবর্ধমান লোকসান ঠেকাতে ১৬টি সুগারমিলের মধ্যে ৬টি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশন। বন্ধের তালিকায় পাবনা সুগার মিল ছাড়াও কুষ্টিয়া, সেতাবগঞ্জ, রংপুর, শ্যামপুর ও পঞ্চগড়ের সুগার মিল। এ বন্ধ প্রক্রিয়ার মধ্যে পাবনা সুগার মিলস্ লিমিটেড চিনিকলের নাম আসায় মিল সচল রাখতে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন পাবনা সুগার মিল এলাকার চাষি, শ্রমিক ও কর্মচারীরা।

jagonews24

পাবনার দাশুড়িয়ায় অবস্থিত ঈশ্বরদী সুগার মিল প্রাঙ্গণে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ সমাবেশ ও দফায় দফায় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ চিনিকল আখ চাষি ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ও আখচাষি কল্যাণ সমিতি পাবনা সুগার মিলস্ লি. এর সভাপতি শাজাহান আলী ওরফে পেঁপে বাদশা সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান মিন্টু, ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান, জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম বাবু, আখ চাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী ডিলু, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বকুল, সলিমপুর উইনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু, আখ চাষি মুরাদ মালিথা, আমজাদ হোসেন মালিথা ও হামিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, আসাদুর রহমান, জহুরুল হক, শ্রমিক কর্মচারী ওয়ার্কার্সার ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম শাহিন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দেশে বিমান, রেলওয়ে, তাঁত শিল্প কি লোকসানে নেই? সেগুলো তো বন্ধ হচ্ছে না। ওই সব সেক্টরের তুলনায় সামান্যই লোকসান চিনিকলে। তারপরও চিনিকলের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। সে টাকার বার্ষিক ৪ শতাংশ মুনাফা ধরলেও বছরে বাড়ছে প্রায় ১২শ কোটি টাকা। সে হিসাবে চিনিকলকে অলাভজনক বলাই যাবে না।

তারা বলেন, ১৮ মাসের ফসল হলো আখ। চাষির মাঠে এখনও আখ। অথচ এরই মধ্যে বলা হচ্ছে পাবনাসহ দেশের ৬টি মিল বন্ধ করে দেয়া হবে। তারা বলেন, এ আখ তারা কি করবেন? চিনিকল বন্ধ করতে হলে অন্তত দেড় বছর আগে ঘোষণা দেয়া উচিত ছিল। অনেক চাষি বংশ পরম্পরায় আখ চাষ করে আসছেন। পাবনা চিনিকলসহ ১৫টি চিনিকলে অন্তত সাড়ে দশ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছেন। চিনিকল বন্ধ হলে চাষি ও কর্মকর্তা- কর্মচারীরা সপরিবারে মানবিক সঙ্কটে পড়বেন।

jagonews24

তারা আরও বলেন, দেশে চিনিকল চালু আছে তাই আজো চিনির বাজার সহনশীল। চিনিকল বন্ধ ঘোষণার পরদিন থেকেই চিনির দাম চারগুণ বেড়ে যাবে। কোন মহলের বাজার তৈরি করে দেয়ার জন্য এমন ষড়যন্ত্র চলতে পারে।

এদিকে আখ চাষি ও শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ জানান, আসলে মিল বন্ধ হয়ে যাবে না চালু থাকবে- তিনি নিশ্চিত নন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে এ পর্যন্ত কিছু জানাননি। তবে তিনি অন্যদের মতো মুখে মুখে গুঞ্জন শুনছেন বিল বন্ধ হওয়ার বিষয়টি।

চাষিদের সঙ্গে এ পর্যন্ত চুক্তিপত্র সম্পাদন না হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, কার্যত মিল চালু থাকবে কিনা এ নিয়ে সবাই দ্বিধায় থাকায় শ্রমিক বা আখ চাষিরা স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হতে বিলম্ব করছেন। সরকারি সুস্পষ্ট ঘোষণার পরই সব কিছু নিশ্চিত হবে।

আমিন ইসলাম/জেএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।