সরকারি বিল দখল করে দেড় কোটি টাকার মাছ আহরণ!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৪:১৫ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় একটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি বিল দখলে নিয়ে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ আহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে সদর উপজেলার ভাদুঘর এলাকার ছায়াবিথী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখত অভিযোগ দিয়েছে বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। গত ১৩ নভেম্বর করা ওই অভিযোগে ছায়াবিথী সমবায় সমিতি বিল থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ আহরণের ‘অপচেষ্টা করছে’ বলে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভাদুঘর এলাকার বোয়ালিয়া বিলটি বাংলা ১৪২৫ সন থেকে ১৪৩০ সন পর্যন্ত ছয় বছরের জন্য ইজারা নিতে সর্বোচ্চ দর দেয় বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। কিন্তু বিলটি বোয়ালিয়া ইজারা দেয়া হয় ছায়াবিথী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে।

২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ছায়াবিথীকে ইজারা দেয়ার পর বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে রিট করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই এক আদেশ দেন উচ্চ আদালত। বাংলা ১৪২৫ এবং ১৪২৬ সনের জন্য ছায়াবিথীর নামে ইজারা বহাল রেখে ১৪২৭ সনের পহেলা বৈশাখ থেকে ১৪৩০ সনের চৈত্র মাস পর্যন্ত বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামের ইজারা দেয়ার আদেশ দেন আদালত। আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে ছায়াবিথী সমিতি।

পরবর্তীতে আপিল বিভাগ চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে বিল ইজারা দেয়ার আদেশ স্থগিত করেন। এরপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ আর বাড়াননি আপিল বিভাগ।

বিল ইজারা পেতে গত ৩০ জুন বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি আদালতের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ইজারা মূল্য নেয়নি।

গত ২ জুলাই বোয়ালিয়া বিলটি সরকারের দখল-নিয়ন্ত্রণে আছে উল্লেখ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় জেলা প্রশাসন। এরপর গত ১০ নভেম্বর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ভাদুঘর বাজারে গিয়ে বোয়ালিয়া বিলটি সরকারের দখল-নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মাইকিং করে স্থানীয়দের অবগত করেন। পাশাপাশি বিলে কেউ প্রবেশ করে মাছ আহরণ করতে গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

কিন্তু ছায়াবিথী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি নুরুল হক তার সহযোগী রফিকুল ইসলাম নেহার, বাছির মিয়া, জসিম উদ্দিন, মহসিন, গাবদ্দিন মিয়া, ছোটন মিয়া, শুক্কুর আলী, সামছু মিয়া, ইকবাল মিয়া, হারিজ মিয়া, মিজান মিয়া, মো. কবির মিয়া, মো. মাহবুব মিয়া ও সাকিল মিয়া প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত ১৩ নভেম্বর বিলে বাঁধ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ছায়াবিথী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি নুরুল হক জানান, বিলটি ছয় বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন তিনি। তার পক্ষে স্থিতাবস্থা রয়েছে। জোর করে তিনি বিলে বাঁধ দেননি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, বিলের বিষয়ে উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা বিদ্যমান থাকায় আমরা তাদের উচ্ছেদ করতে পারছি না। ২৬ নভেম্বর এ বিষয়ে আদালতে পরবর্তী শুনানি হবে। শুনানির পর আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজিজুল সঞ্চয়/এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]