টাঙ্গুয়ার হাওরের হিজলগাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:২৫ এএম, ২৮ নভেম্বর ২০২০

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের জনশূন্য স্থানগুলো থেকে দিনের বেলায়ই একটি চক্র হাওরের পাশের সারিবদ্ধ হিজলগাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এই চক্রকে চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয়দের।

জেলার তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার বিশাল জায়গা জুড়ে টাঙ্গুয়ার হাওর অবস্থিত৷ ছোট-বড় ১২০টি বিল নিয়ে এ হাওর গঠিত। দুই উপজেলার ৪৬টি গ্রামসহ পুরো টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকার আয়তন প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার। যার মধ্যে দুই লাখ ৮০ হাজার ২৩৬ হেক্টরই হলো জলাভূমি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাঙ্গুয়ার হাওরের হিজলের বড় বাগানটি উত্তর দিকে মইয়াজুড়ি ও মুজরাই গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থিত। সম্প্রতি সেখানে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হাওরের গাছ চোর চক্র। ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে তারা।

স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী এ চক্রটি গাছের ডালপালা বিক্রি করছে বিভিন্ন জলাশয়ের ইজারাদারদের কাছে। ইজারাদাররা তাদের জলমহালের গর্তগুলোতে হিজলগাছের ডালপালা ফেলে রাখেন। হিজলগাছের ছাল ও ডাল হলো মাছের খাবার ও আশ্রয়স্থল।

টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ে বসবাসকারী ইমরান হোসেন বলেন, একটি চক্র দিনের বেলা তাদের লাভের জন্য টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে হিজল গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। যা হাওরের সৌন্দর্যকে নষ্ট করছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, অনেকদিন ধরেই এই অবস্থা চলছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের দাবি- সরকার যেন টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় কঠোর হয় এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ জানান, টাঙ্গুয়ার হাওরে গাছ কাটার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

লিপসন আহমেদ/এসএমএম/আরএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]