অবশেষে ভাত খেলেন ম্যারাডোনার শোকে কাতর বাবু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ০৫:১৩ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২০

কিংবদন্তি ফুটবলার ম্যারাডোনার মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশি ভক্তদের কাছেও ম্যারাডোনার মৃত্যুতে চলছে শোকের মাতম। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার তেমনই এক ভক্ত রুহুল আমিন সরকার বাবু। তার প্রিয় ফুটবলার ম্যারাডোনার মৃত্যুতে ভাত, মাছ ও মাংস খাওয়া বন্ধ রেখে গত বুধবার থেকে শোক পালন করেন। সাত দিন পর শোক পালনের খবরে ছুটে এসে সেই ভক্ত রুহুল আমিন সরকার বাবুর শোক ভাঙাল উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা।

মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় বিহারকোল বাজারে তার মুখে খাবার তুলে দিয়ে শোক ভাঙান উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার।

রুহুল আমিন সরকার বাবু উপজেলার বিহারকোল বাজারের ভাই বন্ধু মুদি দোকানের স্বত্বাধিকারী।

শোক পালনের শেষ দিনে রুহুল আমিন সরকার বাবু ম্যারাডোনার আত্মার শান্তি কামনায় ভিক্ষুকদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন এবং স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের ভোজনের আয়োজন করেন। ভোজনে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

এ সময় উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, ‘ফুটবল তারকা ম্যারাডোনার মৃত্যুতে সাত দিন থেকে তিনি ভাত, মাছ ও মাংস খাওয়া বন্ধ রেখে শোক পালন করছেন। এ সময় শুধু শুকনা খাবার খেয়ে জীবনধারণ করেছেন। এ খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে নিজের হাতে ভক্ত বাবুর মুখে খাবার তুলে তার শোক কর্মসূচির সমাপ্তি টানেন।’

jagonews24

স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৬ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা দেখে রুহুল আমিন সরকার বাবু ম্যারাডোনার ভক্ত হয়ে পড়েন। গত বুধবার তার প্রিয় ফুটবলার ম্যারাডোনা মারা গেলে তিনি ভাত, মাছ ও মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেন এবং সাত দিনের শোক পালনের ঘোষণা দেন। এ সময়ে তিনি কালো ব্যাজ ধারণ, মুদির দোকানে শোক পালনের ব্যানার, কালো পতাকা এবং আর্জেন্টিনার পতাকা উত্তোলন করেন। একই সঙ্গে সবার ওপরে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করে রাখেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, প্রত্যেক বিশ্বকাপের সময় দোকান থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার আর্জেন্টিনার পতাকা টানানো, প্রজেক্টরের মাধ্যমে খেলা দেখার ব্যবস্থা করা ছাড়াও আর্জেন্টিনার ম্যাচের দিনে তিনি দর্শকদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেন।

এ বিষয়ে রুহুল আমিন সরকার বাবুর কাছে জানতে চাইলে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘ম্যারাডোনা চিরদিন তার মতো ভক্তের মাঝে বেঁচে থাকবেন।’

স্থানীয় তারিকুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘ম্যারাডোনার প্রতি বাবুর এই ভালোবাসা নজিরবিহীন। তার এ ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাবুকে আর্জেন্টিনায় নিয়ে ম্যারাডোনার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ করে দেয়া ও আগামীতে আর্জেন্টিনার অন্তত একটি ফুটবল ম্যাচ সরাসরি মাঠে বসে দেখার ব্যবস্থা করতে আর্জেন্টিনার সরকার ও রাষ্ট্রদূতের প্রতি অনুরোধ জানাই।’

ব্যতিক্রমী শোক পালনকারী ভক্ত রুহুল আমিন সরকার বাবু ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক।

রেজাউল করিম রেজা/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]