জনপ্রিয়তা নয়, নেতাদের পছন্দই বড় কথা

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৭:২২ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০২০

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নযুদ্ধে টিকে থাকতে জেলা ও স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি নিয়ে জনপ্রিয় প্রার্থীরা ভোটারদের পাশাপাশি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

অন্যদিকে নৌকা প্রতীক পেলেই নিশ্চিত বিজয়ী হওয়া এ রকম চিন্তা-ভাবনা নিয়ে মাঠে না থেকেও কয়েকজন প্রার্থী স্থানীয়, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। তাই প্রার্থীদের কাছে এখন ভোটারদের চেয়ে দলীয় নেতাদের কদর বেশি।

উপজেলা আওয়ামী লীগ মির্জাপুর পৌরসভায় মেয়র পদে সম্ভাব্য ছয়জন প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠিয়েছেন। তৃতীয় ধাপে মির্জাপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র, মির্জাপুর সদর ইউনিয়নের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শহিদুর রহমান শহীদ, সাবেক মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন মনি, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ উদ্দিন আছু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ও পৌর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পৌর মেয়র সালমা আক্তার শিমুল মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সাহাদত হোসেন সুমন মারা যাওয়ায় গত ১০ অক্টোবর উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সুমনের স্ত্রী সালমা আক্তারকে সমর্থন করে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত করেন।

এ পৌরসভায় বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও অন্যকোনো দলের প্রার্থীদের এখনও মাঠে দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে দলীয় নেতাদের সঙ্গে জোর লবিং চালাচ্ছেন একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। কিন্তু কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি তা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে স্থানীয় কয়েকটি এনজিও, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার জরিপ রিপোর্টে মুক্তিযোদ্ধা শহিদুর রহমান শহীদ জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন জানা গেছে।

মির্জাপুর পৌরসভায় ২১ হাজার ৬৪৯ জন ভোটার রয়েছে। নারী ১১ হাজার ৪৫৮ ও পুরুষ ১০ হাজার ১৯১ জন। এর মধ্যে প্রায় ছয় হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটার। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশাল একটি অংশও মেয়র হিসেবে শহীদুর রহমানের প্রতি ঝোঁক রয়েছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

মির্জাপুর পৌরসভায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকলেও ত্যাগী ও যোগ্য প্রার্থী মনোনীত না হলে কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিতে পারে বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। এছাড়া একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে শহীদুর রহমান দলীয় মনোনয়ন পেলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও নেতারা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়মী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, বর্তমান মেয়র সালমা আক্তার শিমুল এমপি একাব্বর হোসেনের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী। অন্যসব প্রার্থীর জনপ্রিয়তা থাকলেও প্রয়াত মেয়র সুমনের প্রতি সম্মান জানিয়ে সকল প্রার্থীই উপ-নির্বাচনে শিমুলকে সমর্থন করেছিল। আগামী পৌর নির্বাচনে শিমুলের প্রতি সেই অকুণ্ঠ সমর্থন থাকবে না বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।

এদিকে সালমা আক্তার শিমুলের নাম প্রথমে দেয়ায় প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, পৌরসভা নিয়ে তাদের স্বপ্ন-প্রত্যাশা সংবলিত বক্তব্য লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতার বিষয় জানান দিচ্ছেন।

তবে প্রার্থীদের তৎপরতা ভোটারদের ঘিরে নয়; ভোটের মাঠে টিকে থাকতে দলীয় নেতাদের দিকে। কারণ দলীয় নেতারা খুশি থাকলেই মিলবে দলের মনোনয়ন। আর দলীয় মনোনয়ন পেলেই দলীয় ভোটও পাবেন। একই সঙ্গে বিজয়ী হওয়ার পথও মসৃণ হবে বলে তাদের ধারণা। তাই তৃণমূল থেকে উপজেলা, জেলা এমনকি কেন্দ্রীয় নেতাদের মন জয় করতে ছুটে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ বলেন, যোগ্য ও জনপ্রিয় ছয়জন প্রার্থীর নাম জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। তা দেখে দলের হাইকমান্ড যার নাম চূড়ান্ত করবে তাকে নিয়েই আমরা ভোট করব।

এসএম এরশাদ/এমআরএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।