শীতের রাতে ছিন্নমূল মানুষ পেল ইউএনওর উষ্ণ পরশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৯:১১ এএম, ১২ ডিসেম্বর ২০২০

 

গত কয়েকদিন কুয়াশাঢাকা আকাশে সূর্যের দেখা নেই। শীতে কাবু পাবনার ছিন্নমূল মানুষজন। শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে তাদের গায়ে গরম কাপড় পরিয়ে দিলেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহমেদ। প্রকৃত দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষগুলো যেন শীতবস্ত্র পান সেজন্যই রাতে ঘুরে ঘুরে এগুলো বিতরণ করেন ইউএনও।

শুক্রবার রাতে প্রচণ্ড শীতের রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দুস্থ, অসহায়, বৃদ্ধা, প্রতিবন্ধী, এতিম, ছিন্নমূল ও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

UNO-(4).jpg

কয়েকদিনের প্রচণ্ড শীতে ছিন্নমূল মানুষের যখন জবুথবু অবস্থা ঠিক সেই সময়ে উপজেলার পৌরসদরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে তাদের হাতে কম্বল তুলে দেন ইউএনও।

সাঁথিয়া পৌর সদরের পথে-ঘাটে ঘুমন্ত বা শীতে কাঁপা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ সব বয়সীদের গায়ে গরম কাপড় পরিয়ে দেন তিনি। শীতের রাতে ইউএনওর এ গরম কাপড়ের পরশ পেয়ে খুশি হন অসহায়রা। কেউ কেউ তার জন্য তাৎক্ষণিক দোয়াও করেন।

এ সময় ইউএনওর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল রায়হান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল জাবির প্রমুখ।

UNO-(4).jpg

সাঁথিয়া পৌর সদরের বাসিন্দা ও পত্রিকা বিক্রেতা আব্দুল বাতেন জানান, মানুষের যেকোনো বিপদ আপদে তার কাছে ছুটে যান ইউএনও। তার দ্বারা আমিও উপকৃত হয়েছি।

সাঁথিয়ার বাসিন্দা, মানবধিকার কর্মী ও (অবঃ) সহকারী অধ্যাপক আব্দুদ দাইন জানান, ইউএনও নিজে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ান। সেটি আমরা এ করোনা সংকটকালে দেখেছি অনেকবার। রুটিন ওয়ার্কের বাইরেও তিনি অনেক কাজ করে সাধারণ মানুষের মন জয় করেছেন।

UNO-(4).jpg

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহমেদ শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে বলেন, সরকারের শীতবস্ত্র বিতরণের অংশ হিসেবে এ কাজগুলো করেছি। এটা আমি দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। একদম প্রান্তিক মানুষের গায়ে শীতবস্ত্র তুলে দেয়ার জন্য শীতের রাতে ফুটপাতে গিয়েছি। ভবঘুরে, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বা মানসিক রোগীদের খুঁজে বের করে তাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছি। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

আমিন ইসলাম/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।