ব্রহ্মপুত্রে ৭০ নৌকাযাত্রীর আতঙ্কের রাত
কুড়িগ্রামের মোগলবাসা ঘাট থেকে ৭০ জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসা রৌমারীর ফলুয়ারচর ঘাটগামী একটি নৌকা ব্রহ্মপুত্র নদের দিক হারিয়ে ১৩ ঘণ্টা পর গন্তব্যে পৌঁছেছে।
দিক হারানো নৌকাটির যাত্রীরা সারারাত ব্রহ্মপুত্র নদের একটি চরে অবস্থান করেন। এ সময় আতঙ্কিত ছিলেন যাত্রীরা। যাত্রীদের মধ্যে দুইজন প্রসূতি মাও ছিলেন। তবে তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে।
ঘাটের ইজারাদার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে কুড়িগ্রামের মোগলবাসা ঘাট থেকে প্রায় ৭০ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি ছেড়ে যায়। ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝখানে যাওয়ার পর ঘন কুয়াশার কারণে নদের দিক হারিয়ে ফেলেন নৌকার মাঝি। পরে ওইখানে জনবসতিহীন একটি চড়ে নৌকাটি নোঙর করান। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
দিক হারিয়েছেন বুঝে অনেক যাত্রী ফেসবুকে পোস্ট দেন তাদের উদ্ধারের জন্য। তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সারারাত ওই চড়ে অবস্থান করে পরের দিন সকাল ৮টায় রৌমারীর ফলুয়ারচর নৌকাঘাটে পৌঁছে নৌকাটি। এ সময় নৌকায় থাকা যাত্রীদের স্বজনরা সেখানে ভিড় জমান।
কুড়িগ্রাম মোগলবাসা থেকে রৌমারী ফলুয়ারচর ঘাটে নৌকা পৌঁছাতে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ওই সময় নৌকার মাঝি ছিলেন নজরুল নামের এক ব্যক্তি।
নৌকার যাত্রী প্রসূতি মা নুপুর বলেন, ‘নৌকাটি রৌমারীর উদ্দেশে বিকেল ৪টায় ছাড়ার কথা থাকলেও বিকেল পৌনে ৫টায় ছাড়ে। কোলে সাত দিন বয়সের দুই যমজ বাচ্চা নিয়ে চরে সারারাত কাটাই। এ সময় আমার খুবই ভয় হচ্ছিল।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বে থাকা মাইন উদ্দিন জানান, সময় অনুযায়ী নৌকাটি ছেড়ে না দেয়ায় ও ঘন কুয়াশার কারণে দিক হারিয়ে অন্য চরে নৌকাটি আটকা পড়ে।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘রাতেই বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছি। তবে নৌকাটি সময়মতো ছেড়ে না দেয়া, নদ খনন না করা ও ঘন কুয়াশার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিশেষভাবে অনুরোধ করব, দ্রুত নদী খনন করে দিলে নৌকা পারাপারে সুবিধা হবে এবং এ ধরনের সমস্যা আর হবে না।’
মাসুদ রানা/এসআর/এমকেএইচ