৩৩ বছর কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালনের পর মেয়র হলেন খোকন
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর থেকে ৩ গুণ বেশি ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন।
চুয়াডাঙ্গার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে ১৯৮৯ সাল থেকে টানা ৩৩ বছর কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করার পর এবারের পৌর নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন পেয়েছেন ২২৩৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মজিবুল হক মালিক মোবাইল ফোন প্রতীকে পেয়েছেন ৭৬৫৭ ভোট।
এছাড়া বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৫৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর আহমেদ মাসরিকী কম্পিউটার প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত তুষার ইমরান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫৯৭ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিবুল হাসান নারিকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৩০১ ভোট।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ ফারুক উদ্দিন আহম্মেদ জগ প্রতীকে পেয়েছেন ২৪২ ভোট। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৬৭৮০৮। এর মধ্যে ৪১৭২১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৪১৬৪৫ এবং বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ৭৬টি।
সোমবার সকাল ৮টার সময় প্রথম ধাপে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শহরের ৩৩টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। প্রচণ্ড শীতের কারণে সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের উপস্থিতি বেড়ে যায়।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি হেভিওয়েট প্রার্থীদের বাদ দিয়ে দু’দলই বর্তমান কাউন্সিলরদের মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়। তবে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন মজিবুল হক মজু।
এবার আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান মেয়র ওবাইদুর রহমান ও সাবেক মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মনোনয়নের দৌড়ে ছিটকে পড়েন। অপ্রত্যাশিতভাবে দল থেকে মনোনয়ন পান পৌর কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন।
অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি। তবে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রাথী হয়েছিলেন মজিবুল হক মজু।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টার্নিং কর্মকর্তা তারেক আহম্মেদ জানান, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচনের মাঠে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কাজ করেছে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। পুলিশের একাধিক টিমের পাশাপাশি মাঠে কাজ করেছে র্যাব ও আনসার বাহিনী। এছাড়া দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছিল
সালাউদ্দীন কাজল/এমআরএম