টানা ৪০ বছর ধরে কাউন্সিলর রুস্তম আলী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৭:১০ পিএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০

রুস্তম আলী তোতা, বয়স ৬৮ বছর। ১৯৭৯ সালের পৌরসভার উপনির্বাচনে কমিশনার পদে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। সেই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন পৌরসভার সবচেয়ে জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি রুস্তম আলী। ১৯৮১ সাল থেকে কুড়িগ্রাম জেলা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হয়ে আসছেন তিনি।

সর্বশেষ গত সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে ২ হাজার ৬১০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন রুস্তম আলী। এ নিয়ে টানা নবমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন তিনি।

রুস্তম আলীর স্ত্রী মোছা. আনোয়ারা বেগম পেশায় একজন গৃহিণী। দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তদের সংসার। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়ে মোছা. তাহমিনা পারভীন বিথি স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী এবং একমাত্র ছেলে আসাদুজ্জামান আশিক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শেষ বর্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত।

জেলা শহরের মিস্ত্রিপাড়ায় ১২ শতক জমিতে তার পাকা বাড়ি। তিনি বাইসাইকেলে করে এলাকায় ঘুরে ঘুরে ওয়ার্ডবাসীর ভালো মন্দের খবর নেন।

তিন নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, কাউন্সিলর রুস্তম আলী তোতা ভাই সব সময় আমাদের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। যেকোনও বিপদে-আপদে সব সময় অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়ান। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তোতা ভাই ওয়ার্ডের কোনও বাসিন্দার প্রতি বৈষম্য করেন না। উনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্বক্ষণিক মানুষের খোঁজ-খবর নেন।

তিনি আরও বলেন, তোতা ভাই ছাড়া আমরা তিন নং ওয়ার্ডবাসী অচল। আমরা চাই উনি সারা জীবন জনপ্রতিনিধি থেকে আমাদের সেবা করুক।

councilar-(1).jpg

ওয়ার্ডের অপর এক বাসিন্দা লিলি বেগম বলেন, তোতা ভাই অত্যন্ত ভালো মানুষ। আমরা যদি গভীর রাতেও কোনও বিপদের সম্মুখীন হলে, আমরা ডাকার আগেই উনি সশরীরে এসে হাজির হোন। এই ওয়ার্ডে আমরা উনার মতো দায়িত্বশীল কাউন্সিলর আর কাউকে পাইনি।

রুস্তম আলী তোতার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী কাউন্সিলর হওয়ার শুরু থেকেই সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়ান। যেকোনও শ্রেণি পেশার মানুষ মারা গেলে, সেখানে গিয়ে তিনি উপস্থিত হোন। তিনি মানব সেবায় নিয়োজিত থাকেন। তাই আমার পরিবারে কোনও ধরনের সমস্যা থাকলেও আমি উনার প্রতি কখনো মন খারাপ করি না।

রুস্তম আলী তোতার ছোট মেয়ে তাহমিনা পারভীন বিথি বলেন, আমি ও আমার ভাই বোন জন্মের আগে থেকেই আমার বাবা কাউন্সিলর হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। আমরা ছোট বেলা থেকেই বাবার ভোটার হওয়ার আশায় থাকতাম। আমরা দুই বোন ও এক ভাই বর্তমানে বাবার ভোটার। আমরা কখনওই বাবাকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ভাবি না। আমরা সব সময় ভাবি আমার বাবা তিন নং ওয়ার্ডবাসীর
অভিভাবক।

কাউন্সিলর রোস্তম আলী তোতার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, প্রথমবার পরাজয়ের পর মুকুল ফৌজ নামে একটি শিশু সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সামাজিক কাজ শুরু করি। সেই থেকে শিশু, নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ সবার সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে তুলি। প্রথম পরাজয়ের পর বুঝতে পারি মানুষের ভালোবাসা অর্জন ছাড়া জনপ্রতিনিধি হওয়া সম্ভব নয়। তাই মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ শুরু করি।

তিনি আরও বলেন, মানুষ আমাকে প্রশ্ন করেন আপনি কেন বার বার নির্বাচিত হোন! কারণটা কী! তখন আমি উত্তর দেই, একজন মানুষ যদি আদর্শবান হোন, সত্য, সাম্য ও দেশপ্রেম নিয়ে চলেন এবং একজন মানুষের স্বভাব, চরিত্র ও আচার-আচরণ ভালো থাকে এবং সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়ান তাহলে উনি একজন জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। এই কাজগুলোই আমি করার চেষ্টা করি। হয়তোবা একারণেই ওয়ার্ডবাসী আমাকে বার বার নির্বাচিত করেন।

মো. মাসুদ রানা/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।