অমল সেনের অষ্টাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নড়াইল
প্রকাশিত: ১২:৫০ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

নড়াইলের তেভাগা আন্দোলনের অগ্রপথিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড অমল সেনের অষ্টাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৭ জানুয়ারি)।

এ উপলক্ষে নড়াইল-যশোরের সীমান্তবর্তী বাঁকড়ীতে অমল সেনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ‘কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটি’র উদ্যোগে দুদিনব্যাপি চলবে এ অনুষ্ঠান।

রোববার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় কমরেড অমল সেনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন ‘কমরেড অমল সেন স্মৃতিরক্ষা কমিটি’, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন- বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করবেন- ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা নড়াইল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কমরেড অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নড়াইল জেলা সভাপতি কমরেড অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবু বক্কার সিদ্দিক, ছব্দুল হোসেন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে। কোভিড-১৯ বাস্তবতায় এবারের আয়োজন সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে জানালেন ‘কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটি’র সম্পাদক অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

কমরেড অমল সেন ১৯১৪ সালের ১৯ জুলাই আউড়িয়ার প্রখ্যাত রায় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন নড়াইলের আফরার জমিদার পরিবারের সন্তান।

নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বৃটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী ‘অনুশীলন’ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। দৌলতপুর বিএল কলেজে গণিতশাস্ত্রে সম্মান শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় মার্কসবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন এবং পড়ালেখা অসমাপ্ত রেখে বাড়িতে ফিরে এসে কমিউনিস্ট আন্দোলনে যোগ দেন।

তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন জীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি হতে পারে মানব সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করায়। তাই তিনি পরিবারের জমিদারি পরিত্যাগ করে বাড়ি ছেড়ে এক কৃষক পরিবারে এসে আশ্রয় নেন আর আমৃত্যু নিজেকে কৃষক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়োজিত রাখেন।

তিনিই নড়াইলের প্রথম কমিউনিস্ট আন্দোলনের সংগঠক। ১৯৩৩ সালে নড়াইলের সরসপুর গ্রামের মৎস্যজীবীদের জলার ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মৎস্যজীবীদের সংগঠন গড়ে তোলেন।

কিছুদিনের মধ্যে তিনি ইজারা প্রথা, হাটতোলা ইত্যাদি খাজনা বন্ধের জন্য গোবরা, আগদিয়া, তুলারামপুর, ধলগ্রাম, মাইজপাড়া এবং মাদরাসার হাটসহ অঞ্চলে হাটতোলা বন্ধের আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন এবং বিজয়লাভ করেন।

আন্দোলনে তার সহযোদ্ধাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন- নূরজালাল মোল্লা, মোদাচ্ছের মুন্সী, হেমন্ত সরকার, বটু দত্ত, রসিক ঘোষ, আজিজুর রহমান, বামাচরণ গোলদার, সরলা সিং প্রমুখ।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর তিন পার্টি ঐক্যবদ্ধ হয়ে লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়। অমল সেন এ পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে ছয়টি কমিউনিস্ট পার্টি সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসাবেও তিনি নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, সাম্যবাদী দল ও ওয়ার্কার্স পার্টির ঐক্যের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হন তিনি।

তার আপোসহীন ভূমিকার কারণে জীবনের উনিশটি বছর তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ স্বাধীনতাকামী বীর জনতা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙ্গে তাকে মুক্ত করেন।

পার্টি কর্মীদের একাংশের সাথে মতবিরোধ হলে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ভারত গমন করেন এবং সেখান থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার কাজ করে যান।

২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন বিপ্লবী কমরেড অমল সেন।

হাফিজুল নিলু/এসএমএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]