সেই নবজাতক চুরির সময় বন্ধ ছিল সিসিটিভি ক্যামেরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ১০:২৬ এএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২১

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির সময় কোনো ক্লোজ সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা চালু ছিল না। ফলে বাচ্চা চুরি করে নিয়ে যাওয়া নারীকে শনাক্ত করতে পুলিশের বেগ পেতে হচ্ছে।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) সকালে রামেক হাসপাতালের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে রবিদাস সম্প্রদায়ের এক নারীর বাচ্চা চুরি করে নিয়ে যান অচেনা এক নারী। নগরীর আইডি বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দা কমলী রবিদাস শিল্পী সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই কন্যা শিশুর জন্ম দিয়েছিলেন। এটিই তার প্রথম সন্তান।

শুক্রবার বিকালে হাসপাতালেই তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার বাচ্চা আমার কোলে যেন এনে দেয়, যেখান থেকেই হোক, যে মানুষই হোক। আমি আর কিছু চাই না।’

পুলিশ কমলীর নবজাতককে উদ্ধারের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে। নবজাতকের একটি ছবি স্বজনদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে প্রচার চালানো হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে। কিন্তু হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরা চালু না থাকার কারণে বাচ্চা নিয়ে যাওয়া ওই নারীকে শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত পুলিশ শনাক্ত করতে পারেনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সময় হাসপাতালের একটি সিসিটিভি ক্যামেরাও অন ছিল না। এ কারণে ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এখন আমরা হাসপাতালের বাইরে সড়কের পাশে পুলিশের এবং ব্যক্তিমালিকানায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তাকে খোঁজার চেষ্টা করছি। এছাড়া নবজাতকের একটি ছবি সংগ্রহ করে প্রচার করা হচ্ছে’।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় শনিবার সকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল নাকি? এটা তো জানি না’।

এর আগে প্রসববেদনা নিয়ে বুধবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে কমলী রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। রাতে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি।

কমলীর জানান, অচেনা এক নারী বৃহস্পতিবার তার কাছে গিয়ে শিশুটিকে আদর করেন। শুক্রবার সকালে তিনি আবার আসেন। তখন বাচ্চাকে বুকে নিয়ে তিনি ঘুমাচ্ছিলেন।

ওই নারী তার সন্তানকে নিয়ে হাঁটতে শুরু করেন। তিনি ডাকাডাকি করে পাশেই ঘুমিয়ে থাকা তার মাসিকে ডাকেন। এসময় মাসি ওয়ার্ডের বাইরে গিয়ে আর তাকে পাননি বলে জানান তিনি।

এসএমএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]