১৬ বছরেও এগুলো না সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যার বিচার

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:১৫ এএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২১

আজ ভয়াল ২৭ জানুয়ারি। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার ১৬ বছর। দফায় দফায় তদন্তের বেড়াজালে আটকে থাকা ভয়ানক এ হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও আলোর মুখ দেখেনি। সাক্ষী না আসা, আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় ঠিকমতো আদালতে হাজির না হতে পারাসহ বিভিন্ন জটিলতায় বিচার কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রিতায় পড়েছে।

এ অবস্থায় বিচার নিয়ে হতাশা কাটছে না নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের মনে। রায়ে গড়াতে কতদিন লাগতে পারে তাও অনিশ্চিত।

এদিকে তদন্ত সঠিক হয়নি দাবি করছেন শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া।

তিনি বলেন, আমার বাবা দেশে বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দেশের জন্য কাজ করেছেন। অর্থমন্ত্রী হয়েছেন। সংসদ সদস্য হয়েছেন। এমপি থাকা অবস্থায় গ্রেনেড হামলায় তিনি মারা যান। ১২ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। কিন্তু এখনও আমরা সুষ্ঠু বিচারের কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছিল। উক্ত মামলায় ৩টি চার্জশিট দেয়া হয়েছে। অথচ একটির সঙ্গে অপরটির কোনো সম্পর্ক নেই। ৩টি চার্জশিটের প্রত্যেকটি আমরা বার বার প্রত্যাখ্যান করেছি এবং করে যাব। যতদিন একটি সুষ্ঠু তদন্ত না হয়, ততদিন সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

মামলার আইনজীবী সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর সরওয়ার আহমেদ আবদাল জানান, হত্যা মামলায় ১৭১ জন সাক্ষীর মাঝে ১২৮ জনই এখনও সাক্ষী দিতে বাকি রয়েছেন। তাদের উপর সমনও জারি করা হয়েছে। আশা করা যায় তারা আসবেন।

তবে মামলার রায় কবে হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। কারণ মামলার সাক্ষীর সংখ্যা অনেক বেশি। সাক্ষ্য নেয়ার পর যুক্তিতর্কে যাবে। তাই এখনও বলা যাবে না কবে রায় হবে।

মামলার বাদী বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ খান জানান, কখনো সাক্ষী না আসা, আবার কখনো গুরুত্বপূর্ণ আসামির বিভিন্ন মামলার আসামি থাকায় ঠিকমতো আদালতে হাজির করা সম্ভব হয় না। এমন জটিলতায় মামলাটির সুরাহা হচ্ছে না।

তবে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার একদিন সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। সভা শেষে ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় তিনি ও তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ মোট ৫ জন নিহত হন।

এতে আহত হন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরসহ ৪৩ জন। এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। দফায় দফায় তদন্তের বেড়াজালে আটকে থাকা রোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়েছে প্রায় ৫ বছর আগে। কিন্তু নানান কারণে বিচারকার্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়েছে।

এফএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]