কনকনে ঠান্ডায় আগুনই যেন একমাত্র সম্বল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ১২:৪৪ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২১

কনকনে ঠান্ডায় থমকে গেছে লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার মানুষের জীবন। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম, ভোগান্তিতে আছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এই ঠান্ডায় খেটে খাওয়া মানুষ কাজে যেতে না পেরে কষ্টে পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টাতেও সূর্যের দেখা মেলেনি। সেই সাথে বেড়েছে কনকনে ঠান্ডা। এতে কাবু হয়ে পড়েছে তিস্তাপারের শিশু, বৃদ্ধ সকলেই।

jagonews24

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রর ইনচার্জ সুভল কুমার জানান, বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাত থেকে ঘনকুয়াশা পড়ে এ অঞ্চলে। দুপুরের আগে সূর্যের আলো দেখা যায় না।

গত তিন দিন কুয়াশার কারণে সূর্য উঁকি দিতে পারেনি। লালমনিরহাট সদরসহ ৫ উপজেলার মহেন্দ্রনগর, মোঘল হাট, দুরাকুটি, খুনিয়া গাছ, চলবালা, মইচ খোঁচা, ভোটমারী, হলদিবাড়ী, সিন্দুর্না, ধুবনী, গড্ডিমারী, সানিয়াজান, ঠাংঝাড়া, ধবলগুড়ি, দহগ্রাম এলাকায় দিনভর কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডার কারণে কাজে বের হতে পারেনি খেটে খাওয়া মানুষজন।

jagonews24

শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মাঠের গরম কাপড়ের মার্কেটে ভিড় বেড়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠির মানুষজন ধানের খড় সংগ্রহ করে রাতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের ব্যর্থ প্রায়াস চালাচ্ছেন।

সরকারিভাবে শীতবন্ত্র বিতরণ শুরু করলেও তা খুবই সীমিত। বেসরকারি কোনো এনজিও থেকেও এখন পর্যন্ত শীতবস্ত্র নিয়ে পাশে দাঁড়ানো হয়নি।

jagonews24

এদিকে শীতের তীব্রতার কারণে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে। হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাঈম ইসলাম জানান, হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশিসহ শীতজনীত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। চিকিৎসা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, লালমনিরহাটের শীতার্তদের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রায় ৫০ হাজার কম্বল ও ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়ে ৫ উপজেলার জন্য শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ চলমান আছে।

রবিউল হাসান/এফএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]