সিংড়া পৌর নির্বাচন : উৎসবমুখর ভোটের অপেক্ষা
রাত পোহালেই নাটোরের সিংড়া পৌরসভার ভোট। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর এটি পৌরসভার পঞ্চম নির্বাচন। এই নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের জান্নাতুল ফেরদৌস ও বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের তায়জুল ইসলাম। এছাড়া পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৫ জন ও সংরক্ষিত চারটি ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ২৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সিংড়া পৌর নির্বাচনের সহকারী রিটানিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩০ জানুয়ারি) ২৬ হাজার ৭৫৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ১২৫ জন ও নারী ভোটার ১৩ হাজার ৬৩২ জন। ১২টি ওয়ার্ডের ১২টি কেন্দ্রের ৮০টি কক্ষে সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তিনটি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কেন্দ্রগুলো হলো ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রহিম উচ্চ বিদ্যালয়, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রহিম ইকবাল কেজি অ্যাকাডেমি ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোল-ই-আফরোজ সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্র।
জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবারের ভোটে পৌর এলাকায় ২৩১ জন পুলিশ সদস্য ও দুই প্লাটুন বিজিবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। সেই সঙ্গে নিয়োজিত থাকবেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের ধারাবাহিকতা শনিবারের ভোটগ্রহণেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন ভোটাররা। ভোটারদের এমন প্রত্যয়ের সঙ্গে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী একমত পোষণ করলেও ভিন্ন বক্তব্য বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর।
ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী তায়জুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে আমার কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের সহিংস আচরণের শিকার হয়েছে। আমি নির্বাচন কমিশনে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। ভোটের আগেই নৌকার সমর্থকদের সহিংস আচরণ বলে দিচ্ছে ভোট কেমন হতে চলেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে শতভাগ জিতবো বলে আশা রাখি।’
তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘বরং ধানের শীষের সমর্থকরা নৌকার ভোটারদের শাসিয়েছে। এ নিয়ে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। বিএনপির প্রার্থী তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে প্রচারণায় পিছিয়ে আছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনোরকম বাধা দেয়া হয়নি তার প্রচারণায়। ভোট শতভাগ সুষ্ঠু হবে এবং নৌকা পুনরায় বিপুল ভোটে জয়ী হবে।’
সিংড়ার অনির্বাণ সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি রাজু আহমেদ বলেন, উন্নত ও পরিপূর্ণ নাগরিক সেবাদানে সক্ষম পৌর পরিষদই আমাদের কাম্য। সেই সঙ্গে ভোট শান্তিপূর্ণ হবে এমনটাই প্রত্যাশা।
বিলহালতি ত্রিমোহনী অনার্স কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম বলেন, সিংড়া পৌরসভার বয়স খুব বেশি নয়। এখনো পৌর এলাকায় অনেক কাজ করার রয়েছে মেয়র-কাউন্সিলরদের। সংসদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো ইতোপূর্বে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারও এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা নির্বাচন অফিসার মো. আছলাম জানান, নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নির্দেশনার আলোকে সুষ্ঠ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় রয়েছি। আমরা এ ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সহযোগিতা ও সহনশীল আচরণ প্রত্যাশা করছি।
জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, আমরা আশা করি ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনোরুপ বিঘ্ন ঘটবে না। আমরা নিরাপদে ভোটারদের ভোটকেন্দ্র আসার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
এমআরআর/জেআইএম