ফের কাউন্সিলর চা বিক্রেতা রাজ্জাক
ফের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের চা বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে এ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৫৮০ ভোট পেয়ে এবারও তিনি নির্বাচিত হন।
এবার নির্বাচনে রাজ্জাকের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন চারজন। এদের মধ্যে একজন বিএনপি সমর্থিত হলেও বাকিরা সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত। নির্বাচন শেষে জয়ের মালা আবারও তার গলায় পরিয়ে দিলেন এলাকাবাসী।
আব্দুর রাজ্জাক মির্জাপুর পৌর এলাকার বাইমহাটী গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে। ২০১৫ সালে তিনি প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর সম্মেলনের মাধ্যমে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
স্থানীয়রা জানান, পেশায় চা বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক। ১৯৯৬ সালে এসএসসি পাস করেন। দিনভর দোকানে থেকে স্থানীয়দের সাথে কুশলবিনিময় করেন। শোনেন তাদের সমস্যার কথা। দোকানে বসেই মানুষের সমস্য সমাধানের চেষ্টা করেন।
২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন আব্দুর রাজ্জাক। কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পরও আগের মতোই ব্যবসা চালিয়ে যান তিনি। একবেলা বাবা নাজিম উদ্দিন দোকানে তাকে সময় দিলেও তিনি এখন অসুস্থ। ভাইদের মধ্যে বড় বলে কাঁধে সংসারের দায়িত্ব। এ কারণে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর দোকানে বসেন। মাঝখানে দুপুরের খাবার খেতে এক ঘণ্টার জন্য বাড়ি যান। ফিরে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানে থাকেন তিনি।
আব্দুর রাজ্জাক এক মেয়ে ও এক ছেলেসন্তানের জনক। মেয়ে নবম শ্রেণি ও ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বাইমহাটী গ্রামের বাসিন্দা কবি জহিরুল ইসলাম শেলী বলেন, ‘কাউন্সিলর রাজ্জাকের কোনো অহংকার নেই। কাউন্সিলর হয়েও তিনি আগের মতো মানুষের সেবার পাশাপাশি চায়ের দোকান চালিয়ে যাচ্ছেন। যে কারণে এবারও এলাকাবাসী তাদের প্রতিনিধি হিসেবে তাকেই বেছে নিয়েছেন।’
এ বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার যতটুকু উপার্জন হয়, তাতেই সংসার চলে। আমি আমার পরিবারের সদস্যদের মতোই গ্রামবাসীকে ভালোবাসি। মানুষের ভালোবাসার পাশাপাশি চা বিক্রি করছি। চা বিক্রি থেকে আমার সংসার চলে। এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবেসে আবার ভোট দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত করায় আমি কৃতজ্ঞ।
এস এম এরশাদ/আরএইচ/এমএস