তাহিরপুরে যুবদলের ‘টাকার কমিটি’ প্রত্যাখ্যান নেতা-কর্মীদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:২৭ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণদের বদলে ‘অযোগ্যদে’র নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কমিটি ঘোষণা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন নেতা-কর্মীরা। ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করে ‘টাকার কমিটি’ উপহার দেয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ নিয়ে তাহিরপুরে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষ করে ছাত্রদল ও যুবদলের পরীক্ষিত, নির্যাতিত, মামলা-হামলায় জড়িতদের কমিটিতে স্থান না হওয়ায় তারা আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি তাহিরপুর উপজেলা যুবদলের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। কমিটিতে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আনিসুল হকের আপন ভাই এনামুল হক এনামকে আহ্বায়ক করা হয়। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় আবু সায়েমকে।

এনাম ও সায়েম কখনো ছাত্রদল ও যুবদলের নেতৃত্বে যুক্ত ছিলেন না। রাজপথের কর্মসূচিতেও তাদের দেখেননি নেতা-কর্মীরা। তাছাড়া এক নেতার কাজের লোক, ড্রাইভারসহ অনেকেই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নেতা-কর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে টাকার মাধ্যমে কমিটি দেয়া হবে- এমন ঘটনার ইঙ্গিত পেয়ে কেন্দ্রকে লিখিতভাবে অবগত করেন তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সহসভাপতি আবুল হোসেন। এ ছাড়া অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে দলীয় মহাসচিবসহ দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন।

তারপরও তৃণমূলের ত্যাগীদের বঞ্চিত করে হাইব্রিডদের নেতৃত্বে যুবদলের কমিটি প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ নেতা-কর্মীদের। কমিটি প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে অনেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তাহিরপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জাতীয়তাবাদী শক্তির বাইরে যাইনি। কমিটিতে আমাকে অপমানজনক স্থানে রাখা হয়েছে। কমিটিতে স্থান হয়নি রাজপথের সক্রিয় নেতা আবুল হোসেনেরও। এই অর্থ ও বাণিজ্যিক কমিটি থেকে আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বিশ্বম্ভরপুর দিগেন্দ্র বর্মণ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম টাকায় কমিটি বিক্রি হবে। তাই আমরা লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। আমার ২২ বছরের রাজনৈতিক জীবনের কাছে এই কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক এক বছরের কর্মসূচিও দেখাতে পারবে না। তারা টাকা দিয়ে কমিটি এনে আমাদের নেতা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের হাতকে শক্তিহীন করার ষড়যন্ত্র করছেন।’

তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সক্রিয় নেতা আবুল হোসেন বলেন, ‘টাকার কাছে এই কমিটি বিক্রি হবে বুঝতে পেরে আমি কেন্দ্রকে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছিলাম এক মাস আগে। কয়েকজন দায়িত্বশীল ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীর বদলে টাকাওয়ালা খুঁজছে মর্মে আমি কেন্দ্রে হাজির হয়ে প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দেই।’

যারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা হলেন- সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা ফেরদৌস আলম আখঞ্জী, ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম, মাহবুব মল্লিক, রুকন উদ্দিন, যুব নেতা আমির শাহসহ বেশ কয়েকজন নেতা।

জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবুল মনসুর মো. শওকত জাগো নিউজকে বলেন, ‘কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। আমরা কেবল সুপারিশ করেছি। এরপরও যদি কারও কোনো কথা থাকে তাহলে তারা কেন্দ্র ও আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। দ্বন্দ্ব ভুলে আমাদেরকে জাতীয়তাবাদী দল তথা বেগম খালেদা জিয়া ও আমাদের নেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।’

এদিকে যুবদলের আহ্বায়ককের দায়িত্ব পাওয়া এনামুল হক এনামের মোবাইলে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

লিপসন আহমেদ/জেডএইচ/ইএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।