পুলিশের গড়িমসিতে জমি হয়ে গেল গভীর পুকুর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১১:৪৯ এএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জমিতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে হুমকিতে পড়েছে আশপাশের কৃষিজমিগুলো। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আদালত ১৪৪ ধারা জারি করলেও পুলিশ কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি।

বরং আদালতের সমন পাওয়ার ২২ দিন পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এই সুযোগে ভূমিদস্যুরা জমিতে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করে পুকুর বানিয়ে দিয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুরের মৃত নাসির উদ্দিনের মেয়ে সাবেরা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এতে আসামি করা হয় একই এলাকার মৃত আনজব আলীর ছেলে কাপ্তান মিয়াকে।

সরেজমিনে জেলার নাসিরনগরের হরিপুরে গিয়ে দেখা যায়, ওই জমিতে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করে পুকুর বানিয়ে দেয়া হয়েছে। যার গভীরতা প্রায় ১৫ ফুট।

jagonews24

স্থানীয়রা জানায়, মৃত নাসির উদ্দিনের ৬৭ শতাংশ জমি রয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার পর তার ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে এই জমির মালিক। এই জমির পাশে কাপ্তান মিয়া নামের এক প্রভাবশালীর জায়গা ও ইটভাটা রয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি রাতে কাপ্তান মিয়া ওই জমিতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলন শুরু করেন। এই মাটি তিনি তার ইটভাটা ও আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে বিক্রয় করেন। আর কাপ্তান মিয়াকে সহায়তা করেন মৃত নাসির উদ্দিনের এক ছেলে ওসমান মিয়া।

ওসমানের সাথে তার অন্যান্য ভাই-বোনের বনিবনা নেই। তার বিরুদ্ধে প্রায় দেড় ডজন মামলা রয়েছে। তাই কোনো উপায় না পেয়ে মৃত নাসির উদ্দিনের মেয়ে সাবেরা বেগম অন্যান্য ভাই-বোনের পক্ষে বাদী হয়ে গত ১৪ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করতে মামলা দায়ের করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ১৪৪ ধারা আদেশ দিয়ে নাসিরনগর থানাকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন। গত ১৭ জানুয়ারি থানায় আদালতের আদেশ গিয়ে পৌঁছায়। কিন্তু থানা থেকে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

মামলার বাদী সাবেরা বেগম বলেন, আদালতের ১৪৪ ধারার কাগজ ১৭ জানুয়ারি থানায় গিয়ে পৌঁছে। কাগজ পাওয়ার পরও থানা থেকে এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় কাপ্তান মিয়া আমাদের জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে আমি ২২ জানুয়ারি থানায় গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদেশটি নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। তারপর ঘটনাস্থলে পুলিশ না যাওয়ায় আবার ২৫ জানুয়ারি থানায় যাই। কিন্তু তাতেও থানা থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

তিনি আরও বলেন, কাপ্তানের পরিবার অনেক দাপটশালী। তিনি এবার ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তার চাচাত ভাই স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়াও তাদের পরিবারটি এলাকায় বিতর্কিত। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না।

jagonews24

এই বিষয়ে অভিযুক্ত কাপ্তান মিয়া বলেন, আমি তাদের জমি থেকে মাটি উত্তোলন করিনি। এগুলো তাদের ভাই ওসমান করেছে। আমি নিজে বিচার প্রার্থী। আমার নিজের জমি হুমকির মুখে পড়েছে।

এই ঘটনায় ওসমান মিয়ার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিচুল হকের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি সময় মতো পুলিশ পাঠিয়েছেন বলে জানিয়ে লাইন কেটে দেন।

অথচ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) খোকন জানান, আমাকে ওসি সাহেব আদালতের আদেশটি ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে দিয়েছেন। আমি ১০ ফেব্রুয়ারি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি দুইদিন আগেই অনেক গভীর করে মাটি উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।