ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিত্রনায়ক রোশানের ওপর হামলার চেষ্টা
চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তাকজিল খলিফা কাজলের নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নুরুল হক ভূইয়ার ছেলে ও বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক জিয়াউল হক রোশান।
রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সকালে ভোটের শুরুতেই আমি পৌরসভার দূর্গাপুর কেন্দ্রে যাই। সেখানে আমাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছিল না। আমি গিয়ে এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকিয়ে দিয়ে ফিরছিলাম। এসময় মেয়র কাজলের ভাই দানিস খলিফা সব এজেন্টকে তার দলবল নিয়ে এসে বের করে দেন। আমার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। পরে আমাকে ধাক্কা দেন। ফের আমার বাবা গিয়ে এজেন্টদের ঢুকিয়ে দিয়ে আসলে বের করে দেন।’
তিনি বলেন, ‘যেখানেই যাচ্ছি প্রতিটি কেন্দ্রেই ইভিএম দেখছি ওপেন। তাহলে নির্বাচন করে কিসের ফায়দা? একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশায় এতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে কী লাভ? নারী এজেন্টদেরও ধস্তাধস্তি করে বের করে দেয়া হচ্ছে।’
এদিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে সরে দাঁড়িয়েছেন।
আখাউড়া বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বুথে চলছে আওয়ামী লীগের মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে প্রকাশ্যে ভোটগ্রহণ। ভোটাররা আঙুলের ছাপে নিজেদের পরিচয় শনাক্তের পর গোপন কক্ষে ভোট প্রদানের আগে প্রকাশ্যে ইভিএমে নৌকা প্রতীকে ভোট নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর এজেন্টরা। তারপর গোপন কক্ষে কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোট দিতে হচ্ছে।
তবে আখাউড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জহুরুল আলম বলেন, ‘প্রকাশ্যে ভোট দেয়ার এমন কোনো অভিযোগ নেই। আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবেই হচ্ছে।’
এসআর/জিকেএস