জীবন বাজি রেখে ছেলেদের ৫০ লাখ টাকা রক্ষা করলেন বাবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৭:৫৮ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

জীবন বাজি রেখে ছেলেদের ৫০ লাখ টাকা রক্ষা করলেন বাবা। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পাবনার সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের বোনকোলা গ্রামে জয়েন উদ্দিন শেখের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী দুই ছেলের ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে বাড়িতে রাখেন জয়েন উদ্দিন শেখ (৬০)। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে পুলিশ পরিচয়ে তাদের দরজা খুলতে বলেন ডাকাতরা। না খোলায় তারা দরজা ভেঙে একটি ঘরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় জয়েন উদ্দিন শেখ পাশের ঘর থেকে বের হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশস্ত্র ডাকাত সর্দার জীবন খাঁন ওরফে জীবন কসাইকে (৪০) জাপটে ধরে চিৎকার দেন। প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসলে অপরাপর ডাকাতরা পালিয়ে যান। পরে তারা জীবন কসাইকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি ছুরি, একটি স্টিলের কিরিচ, একটি হাতুড়ি জব্দ করে স্থানীয়রা।

বাড়ির মালিক আহত জয়েন উদ্দিন শেখ বলেন, ‘কাতার প্রবাসী দুই ছেলে মানিক ও রতনের পাঠানো ৫০ লাখ টাকা তুলে বাড়িতে রাখেন তিনি। ওই টাকা লুট করতে ডাকাতদল হানা দিয়ে হাতুড়ি দিয়ে ঘরের দরজা ভাঙতে শুরু করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোন উপায় না দেখে জীবনের ঝঁকি নিয়ে পাশের কক্ষ থেকে বের হয়ে একজনকে জাপটে ধরি। এসময় ডাকাতরা আমাকে হাতুড়ি দিয়ে পেটাতে থাকে। আমার চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এলে অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যান।’

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুদ্দোজা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় ডাকাত সর্দার জীবন খান ওরফে জীবন কসাইকে আটক করে । তার কাছ থাকা ও সঙ্গীদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।’

পাবনার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) মেফরহাদ হোসেন বলেন, ‘জীবন খাঁন ওরফে জীবন কসাই একজন পেশাদার ডাকাত। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির কথা স্বীকার করে তার সহযোগীদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।’

আমিন ইসলাম/আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।