কদর কমেছে কুমোরদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মেহেরপুর
প্রকাশিত: ০৩:১৮ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

রাত-দিন কাদামাটির কাজ করে যেন হয়ে গেছেন মাটির মানুষ। কিশোর বয়সে মনের অজান্তেই মা-বাবার দেখাদেখি এই ‘কুমোরজীবনে’ জড়িয়ে গেছেন মঞ্জুরী পাল। স্বামীর সংসারে এসেও একই কাজ। সংসারে রয়েছে এক মেয়ে ও দুই ছেলে। জমিজমা নেই। একাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করানোর পর মেয়েকে বিয়ে দেন। বড় ছেলে এমএ পাস করে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। ছোট ছেলে পড়ছেন উচ্চ মাধ্যমিকে।

jagonews24

শুধু মঞ্জুরী পাল নয়, তার মতো শতাধিক পরিবারের লোকজন দিনরাত পরিশ্রম করেও দারিদ্র্যর কষাঘাত থেকে মুক্ত হতে পারছে না গাংনীর আমতৈল গ্রামের কুমোররা। একদিকে মাটি ও আনুষঙ্গিক জিনিসের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে প্লাস্টিকের চমকপ্রদ দ্রব্যাদির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নিপুণ শিল্পকর্মখচিত মাটির জিনিসের কদর কমে গেছে। ফলে দৈন্যদশা বিরাজ করছে কুমোরদের মাঝে। স্বল্পসুদে ঋণ পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে জানিয়েছেন শতাধিক কুমোর পরিবার।

jagonews24

মেহেরপুর জেলা শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে আমতৈল গ্রাম। গ্রামের ২৭টি কারখানায় শতাধিক পরিবারের লোকজন মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত। নারী-পুরুষ সবারই কাদামাটির গন্ধমাখা শরীর। একসময় এদের নিপুণ হাতের শিল্পকর্মে তকতকে কাদামাটি হয়ে ওঠে নিত্যব্যবহার্য বাসনপত্র, ফুলের টব, নান্দা, খেলনাসহ কারুকাজ করা শোপিস।

jagonews24

বেশ কদরও ছিল এসব জিনিসের। ইমিটেশন ও প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসের কদর বেড়ে যাওয়ায় মাটির তৈরি জিনিসের এখন আর সেই কদর নেই। এখন পয়োনিষ্কাশনের জন্য তৈরি করা হচ্ছে মাটির পাট বা স্লাব। জেলার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও বিক্রি হচ্ছে এসব স্লাব। এদের কাজের নিপুনতা ও সৌন্দর্য থাকলেও মলিন পোশাক ও রোগব্যাধির ফলে দ্রুত আসা বার্ধক্য একটা মলিন আবরণ ফেলে দিয়েছে তাদের চেহারায়।

jagonews24

মৃৎশিল্প তৈরি কারখানার মালিক স্বপন জানান, আগে এক ট্রলি মাটির দাম ছিল ২০০ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১০০০ টাকা। জ্বালানির দামও বেড়ে গেছে। কারখানার মালামাল তৈরি ও চলার জন্য জমি লিজ নিতে হয়। এক বিঘা জমি লিজ নিতে বাৎসরিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দিতে হয়। বছরের মাত্র ৮ থেকে ৯ মাস চলে এ ব্যবসা।

তিনি জানান, অনেক কুমোর বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে মৃৎশিল্পে বিনিয়োগ করেছেন। আনুষঙ্গিক খরচ মিটিয়ে এমন কোনো টাকা থাকে না যা দিয়ে সমিতির কিস্তি পরিশোধ করবেন। সরকার যদি স্বল্প সুদে কুমোরদের ঋণের ব্যবস্থা করত তাহলে সব কুমার স্বাবলম্বী হতে পারতেন। একই কথা জানালেন মঞ্জুরী বালা পাল।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজি আবুল মনসুর জাগো নিউজকে বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য সরকার দুটি কর্মসূচি চালু করেছে—একটি ভাতা কর্মসূচি অন্যটি ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি। কুমোররা যদি ঋণের জন্য আবেদন করেন তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আসিফ ইকবাল/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]