কোনো কাজে আসছে না সেতুটি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০১:২৬ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীর দেউলিয়া (চারমাথা) কাদিবাড়ী ঘাটে ওপর সেতু নির্মিত হলেও সেটি কোনো কাজেই আসছে না। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, প্রকল্পের সময় সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজ থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম টাকা দিতে চাওয়ায় জমির মালিকরা তা প্রত্যাখান করেছেন। ফলে জমি জটিলতায় কাজে আসছে না সেতুটি।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দেউলিয়া (চারমাথা) কাদিবাড়ী ঘাটে প্রায় ৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে পাঁচ কোটি ২১ লাখ ২৭৭ টাকা। কাজটি করেছেন ‘ইথেন-পিএমপিএল জয়েন ভেঞ্চার’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ছয় মাস আগে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু সেতুর পূর্বপাশে প্রায় ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের (এক বিঘা পাঁচ কাঠা) জমি জটিতলায় সংযোগ সড়কের কাজ থেমে আছে।

সেতুর পূর্বপাশ থেকে দেউলিয়া মোড় পর্যন্ত সরকারি সরু রাস্তা আছে। রাস্তার অনেকটাই বাঁকা। আবার প্রশস্ত করতে রাস্তার দুইপাশে ব্যক্তিমালিকানার পাঁচজনের জমির ওপর পড়বে। সেতু নির্মাণের বরাদ্দ দেয়া হলেও রাস্তা নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। কোনো বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার নিজ থেকে এক বিঘা পাঁচ কাঠা জমির জন্য মালিকদের দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছেন। কিন্তু বাজারমূল্যের চেয়ে তা অনেক কম হওয়ায় জমির মালিকরা তাতে রাজি হননি।

জমির মালিক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে জরিপের সময় সেতু থেকে দেউলিয়া মোড় পর্যন্ত কয়েকজন মালিকের প্রায় এক বিঘা পাঁচ কাঠা জমি পড়েছে। সেখানে আমারও পাঁচ কাঠা আছে। বর্তমানে জমির মূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা বিঘা। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন তরফদার মোট জমির ওপর দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছেন। আমরা সরকারি মূল্যে জমি দিতে চাই। এ কারণে রাস্তার কাজ বন্ধ রয়েছে।

jagonews24

সেতুর পাশে চা দোকানদার বকুল হোসেন বলেন, প্রায় ছয়মাস আগে সেতুটি তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেতুতে ওঠার রাস্তা তৈরি হয়নি। সেতুটি অনেকে উঁচু হওয়ায় মোটরসাইকেল বা ভ্যান নিয়ে উঠতে গিয়ে অনেকে উল্টে পড়ে যায়। প্রতিদিনই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে ইথেন-পিএমপিএল জয়েন ভেঞ্চারের ঠিকাদার ইকবাল শাহরিয়ার রাসেল বলেন, সেতুর কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু জমি জটিলতায় এপ্রোচ সড়কের কাজ হচ্ছে না। এটা প্রশাসনিক ব্যাপার। তবে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।

বদলগাছী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ওই সেতুর জন্য ডেভলোপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপ্রোজালের (ডিপিপি) সময় এপ্রোচ সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। সেতুর পূর্বপাশে সরকারি যে রাস্তা আছে তার ওপর দিয়েই রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এছাড়া রাস্তা প্রশস্ত করতে হলে কিছু ব্যক্তিগত জমির ওপরও যাবে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য জমির মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া ঠিকাদার অন্য জায়গায় কাজ করছেন। সেখানে কাজ শেষ হলেই ওই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করবেন।

আব্বাস আলী/এএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]