মেহেরপুরে খোলাবাজারে যৌন রোগের ওষুধ, ঝুঁকি বাড়ছে অন্য রোগের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মেহেরপুর
প্রকাশিত: ০৩:১০ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২১

সরকারি নিয়মনীতি না মেনেই মেহেরপুরের গাংনীর বিভিন্ন হাট-বাজার ও পথে-ঘাটে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের যৌন রোগের ওষুধ। পাশাপাশি রয়েছে যৌন উত্তেজক ওষুধও। মজমা বসিয়ে ক্রেতাদের আকর্ষণ করে নামহীন কোম্পানির এসব ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। তা সেবন করে অন্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ না থাকায় অবাধে এসব ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রশাসন বলছে, ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিয়ম অনুযায়ী ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ও চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। ফুটপাতের হকাররা প্রকাশ্যে যৌন উত্তেজক পাওয়ার অয়েল, ডি বাজিকরণ, ম্যাক্স জেড, অ্যাপেক্স, ভিগোসা, লুমিসেক, ডেফরল, ভারতীয় যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেনেগ্রা, এডিগ্রা, মুনিস, ভিগো ফোর্ট ও টার্গেট এমনকি মহামারি করোনার ওষুধও বিক্রি করছেন। তবে এসব ওষুধ সেবন করে কারও রোগ ভালো হচ্ছে কি-না তা জানাতে পারেননি হকাররা।

ওষুধ বিক্রেতা ইমরান আলী জানান, বিভিন্ন কোম্পানির প্রচারে ও পেট বাঁচানোর জন্যই এসব ওষুধ বিক্রি করে থাকেন।

তার দাবি, মানুষ উপকার পায় বলেই এ ধরনের ওষুধ চলছে খুব বেশি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ কিছু বলে না।

jagonews24

একই কথা জানালেন হকার আল মামুন। তিনি বলেন, কোম্পানির প্রচার ও হারবাল ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি নিজের তৈরি ওষুধও বিক্রি করছেন অনেকে। যদিও ওষুধ প্রস্তুত এবং বিপণনের কোনো অনুমতি নেই তাদের।

ওষুধ সেবন করে কেউ উপকার পেয়েছে কিনা তা কেউ বলতে পারেনি। তবে অনেকেই বিশেষ ও যৌন শক্তি বাড়াতে এ ওষুধ কিনছেন। কোনো উপকার পাচ্ছেন না বরং জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

ওষুধ ক্রেতা রুয়েরকান্দি গ্রামের বদর উদ্দীন জানান, তিনি ও তার বন্ধু হাটে গিয়ে হকারদের মজমায় গান শোনেন। সেসময় হকারদের মিষ্টি মধুর কথা শুনে সহজে আরোগ্য লাভের আশায় যৌন রোগের ওষুধ কিনে সেবন করেন। কিন্তু ওষুধ সারেনি বরং আরও জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

একই গ্রামের আনারুল জানান, গ্যাস্ট্রিকের ও শরীর ভালো রাখার জন্য ‘দেহমুক্তি যৌন বাহার সালসা’ কিনে সেবন করেছেন। এতে তার হার্টের অসুখ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এমকে রেজা বলেন, ‘প্রেসক্রিপশন ছাড়া যৌন রোগের ওষুধ সেবন করলে শরীরের স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সিংহভাগ লোক বিভ্রান্ত হয়ে যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন করেন। এসব ওষুধ হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন ব্যবহারে দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়। এতে লিভার ও নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।’

এ ব্যাপারে ড্রাগ সুপার মুহসিনিন মাহমুদ বলেন, ‘গাংনীর বিভিন্ন দোকান ও খোলা বাজারে অভিযান চালানো হয়। আগামীতে অভিযান চলবে এবং হকারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আসিফ ইকবাল/এসজে/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]