গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও ‘সকস বাংলাদেশ’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৫:৩৯ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২১

ফেনীর দাগনভূঞায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অন্তত ৫০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে ‘সকস বাংলাদেশ’ নামের একটি এনজিও। এ ঘটনায় এনজিওটির ভাড়া অফিস সিলগালা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এদিকে প্রতারিত গ্রাহকরা মামলা ও মানববন্ধন করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না।

গ্রাহক ও স্থানীয়রা জানান, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের পাশে ওয়াসিম ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়াবাসায় অফিস নিয়ে বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের থেকে বাড়তি সুদের প্রলোভন দেখিয়ে সঞ্চয় ও ডিপিএস সংগ্রহ করছিলেন সকস বাংলাদেশ নামের একটি সংস্থা। এছাড়াও গ্রাহকদের সহজ শর্তে মোটা অঙ্কের ঋণ দেয়ার কথা বলে ৫-২০ হাজার টাকা জামানতও নেয় তারা।

স্থানীয় রিকশাচালক আবুল কাশেম জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে তিনি এ প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি সহজ শর্তে ২০ হাজার টাকা দিয়ে দুই লাখ টাকা ঋণের আবেদন করেছেন। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ওই টাকা দিয়ে নতুন ঘর তোলার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু ঋণ গ্রহণের তারিখে অফিসে এসে দেখেন তালা মারা।

jagonews24

তিনি আরও জানান, আশপাশের লোকজন থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার উপরে হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক এনজিওটি।

এ ঘটনায় দাগনভূঞা থানায় মামলা করেছেন উপজেলার রামানন্দপুর গ্রামের হাসিনা মমতাজ নামের এক গৃহিণী। মামলায় ভাড়াবাসার মালিক আমান উল্লাহ, স্বপন হোটেলের মালিক স্বপন ও সকস বাংলাদেশের দাগনভূঞার ব্যবস্থাপক রানাকে আসামি করা হয়েছে।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার তানিয়া বলেন, বুধবার (৩ মার্চ) সকালে বিষয়টি জানতে পেরে আমি সরেজমিন পরিদর্শন করি। সেখানে ২০-৩০ প্রতারিত গ্রাহকের দেখা পাই।

jagonews24

তারা জানান, তারা কয়েকদিন আগে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে সঞ্চয় দিয়েছেন এই অফিসে এক লাখ টাকা হারে ঋণ পাওয়ার জন্য। কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত দিনে ঋণ নিতে এসে দেখেন কার্যালয়ের তালা ঝুলানো। ওই কার্যালয়টি সিলগালা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাগনভূঞা থানাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, এনজিও প্রতারণার শিকার হাসিনা মমতাজ নামের এক মহিলা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করছি। কি পরিমাণ টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির লোকজন পালিয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

এসএমএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]