গৃহিণী থেকে মেয়র হওয়ার গল্প

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট
প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ০৭ মার্চ ২০২১

মেয়র রাবেয়া সুলতানা পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার নাইল শিমুলটাই গ্রামের কৃষক পরিবারের মেয়ে। বাবা আকবর হোসেন ও মা মাজেদা বেগমের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে সবার ছোট রাবেয়া। জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৯ সালে।

১৯৯৭ সালে জয়পুরহাটের কালাই পৌর এলাকার দোকানদার পাড়া-মহল্লার সাজ্জাদুর রহমান কাজলের সাথে তার বিয়ে হয়। এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া চলাকালীন বিয়ের পর আর লেখাপড়া করা হয়নি রাবেয়ার।

স্বামী কাজল কালাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও কালাই ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় গত ১১ নভেম্বর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

এই দম্পতির এক মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য চেষ্টা করছেন ও ছেলে এবার ডিগ্রি পাসকোর্সে ভর্তি হবেন।

চলতি বছর জয়পুরহাট জেলায় প্রথম নারী মেয়র হিসেবে কালাই পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে জয়লাভ করেন রাবেয়া সুলতানা। পুরোদস্তুর একজন গৃহিণী থেকে মেয়র হয়ে ওঠার গল্পই শুনিয়েছেন মেয়র রাবেয়া সুলতানা।

তিনি বলেন, আল্লাহপাকের ইচ্ছায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের একান্ত সহাভূতিতে আজ মেয়র হয়েছি। আমার স্বামী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকেই জড়িত ছিলেন। আমাদের পরিবারের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এটা একটা দান বলতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর দানকে তো আমি ফেলে দিতে পারি না।

আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের কোনো পদ বা সদস্যও ছিলাম না। আমি ছিলাম একজন গৃহিণী। দলের সাথে যুক্ত না থাকলেও মানুষের সেবা করতে সবসময় রাজনীতিতে আমার স্বামীকে উৎসাহ দিয়েছি।

আমার সদ্য প্রয়াত স্বামী কাজল আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। সে হিসেবে কালাই পৌরবাসী তাকে খুবই ভালোবাসতেন। এর আগে গত নির্বাচনেও তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, তবে দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন। এবারের নির্বাচনেরও জন্য তিনি প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে মারা গেলে মাননীয় হুইপ স্বপন ভাইসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাকে সমর্থন দিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেন। এরপর কাজলের প্রতি সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ছিল বলে কালাই পৌরবাসী আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন।

নির্বাচিত হওয়ার পর এখন কী কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়রের কাজগুলো কী এখনও জানি না। এগুলো বুঝে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এইটুকু জানি যে, এর মাধ্যমে মানুষের সেবা করা সম্ভব। তাই প্রথমে আমি এই পৌরসভার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাউন্সিলরদের সহযোগিতায় বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।

এছাড়া আমি একজন নারী, তাই সবার আগে অসহায় ও নির্যাতিতা নারীদের পাশে দাঁড়াব। নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করব। পাশাপাশি প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসহ সব ধরনের অনাচার বন্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করব। সর্বোপরি আমার স্বামী মরহুম কাজলের স্বপ্ন কালাই পৌরসভার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই।

রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা যখন পেয়েছি তখন কোনো পদ না দিলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতি করব, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলব।

রাশেদুজ্জামান/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]