গ্রাহকদের সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে এনজিও উধাও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৬:২৪ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২১

নওগাঁয় ‘স্বদেশ উন্নয়ন সংস্থা (সুখ)’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ঋণ দেয়ার নামে গ্রাহদের নিকট থেকে সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর সংস্থার কার্যালয়টি তালাবদ্ধ রয়েছে। এদিকে ভুক্তভোগীরা প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি শহরের জগৎসিংহপুর মহল্লার বটতলা মোড় সংলগ্ন শামসুল হক নামে এক ব্যক্তির বাসার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে ‘স্বদেশ উন্নয়ন সংস্থা (সুখ)’ কার্যক্রম শুরু হয়। খুলনা জেলার সাইফ হোসেন সংস্থার পরিচালক ও সিরাজগঞ্জ জেলার তাজবীর জুয়েল ম্যানেজার পরিচয় দেন। এরপর তারা সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের মঙ্গলপুর, রামজীবনপুর, আদম দূর্গাপুর, কাদোয়া, ফতেহপুর, চন্ডিপুর ও নগর কুসুম্বিসহ কয়েকটি গ্রামে নারীদের জীবন মানোন্নয়ন ও ক্ষুদ্র ঋণদান কর্মসূচি চালু করার জন্য উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে গ্রামের নারীদের হস্তশিল্প, কুটির শিল্প, সেলাই, বেতের কাজ ও মৎস্য খামার অন্যান্য বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেন।

jagonews24

এছাড়া ক্ষুদ্র ঋণদান প্রকল্পে দুইবছর মেয়াদী একলাখ টাকার বিপরীতে ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় ও ১৫ হাজার টাকা সুদ নেয়া হবে বলে স্থানীদের বুঝানো হয়। ঋণ দেয়ার কথা বলে কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৪০ জন অসহায় মানুষের কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। ঋণ নেয়ার জন্য গ্রাহকরা গত বুধবার (৩ মার্চ) অফিসে আসতে বলা হলেও গ্রাহকরা অফিস বন্ধ পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকে অফিস তালাবদ্ধ ও সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের ফোনও বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলপুর গ্রামের ভুক্তভোগী আশিক হোসেন বলেন, ‘গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আমাদের এলাকায় এসে স্বদেশ উন্নয়ন সংস্থার (সুখ) সাইফ হোসেন ও তাজবীর জুয়েল একটি প্রজেক্টের জন্য একটি কেন্দ্র তৈরি করে নারীদের ৫৪ ধরনের কাজ শেখাবেন বলে জানায়। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০ জন নারীর জীবন মানোন্নয়ন ও ক্ষুদ্র ঋণদান দেয়া হবে। আমি এক লাখ টাকা ঋণ নিবো বলে স্ত্রীর মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা তাদের সঞ্চয় দেই। কিন্তু বুধবার (৩ মার্চ) অফিসে গিয়ে দেখি তালাবদ্ধ ও তাদের ফোনও বন্ধ। আমরা বুঝতেই পারিনি এভাবে প্রতারণার স্বীকার হবো।’

jagonews24

ভুক্তভোগী জুয়েল হাসান ও গৃহবধূ বিউটি বেগম বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। কিছুদিন আগে ওই এনজিও থেকে দুইজন লোক এসে আমাদের বিভিন্ন ভাবে বুঝায়। স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া হবে। যেহেতু আমাদেরও টাকার প্রয়োজন এজন্য ঋণ নিতে তাদের টাকা দেই। টাকা দেয়ার চারদিন পর তারা এলাকা ছাড়া। ঋণ নিয়ে সংসারে কাজে লাগাতাম। কিন্তু এখন আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।’

রামজীবনপুর গ্রামের গৃহবধূ পাখি, নুরুপ ও পাপিয়া বলেন, ‘আমাদের সেলাইয়ের কাজ শিখাতে চাওয়া হয়েছিল। এজন্য ফরম ৫০ টাকা ও সঞ্চয় বাবদ ২০০ টাকা নেয়া হয়। তারা টাকা নেয়ার পর থেকে আমাদের এলাকায় আসেনি। পরে শুনছি এনজিওটি উধাও হয়ে গেছে।’

সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের ইন্টিতলা মোড়ের বাসিন্দা শারমিন। তিনি স্বদেশ উন্নয়ন সংস্থার (সুখ) অফিস সহায়ক পদে চাকরি করতেন। তিনি বলেন, ‘ওই অফিসে আমি ৫০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে অফিস সহায়কের চাকরি করতাম। গত ১০ দিন ওই অফিস করেছি। গত বুধবার (৩ মার্চ) অফিসে গিয়ে দেখি বন্ধ। তারপর থেকে অফিস বন্ধ ও তাদের ফোনও বন্ধ পাচ্ছি।’

jagonews24

ভবনের মালিক শামসুল হক বলেন, ‘ওই এনজিও গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সাড়ে সাত হাজার টাকায় ভাড়া এবং দুই লাখ টাকা সিকিউরিটি হিসেবে বাসায় ওঠে। অফিসে কাগজপত্রসহ চেয়ার টেবিল নিয়ে আসে। গত বুধবার (৩ মার্চ) সিকিউরিটি ও বাসা ভাড়ার টাকা, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারপর থেকে তাদের ফোন নম্বর বন্ধ এবং অফিসে কেউ আসছে না। নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।’

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

আব্বাস আলী/আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]