প্রয়াত ডেপুটি স্পিকারের মুক্তিযোদ্ধা আবেদন নামঞ্জুর
জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নুর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
মরহুমের পক্ষে তার বড় ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি আবেদনটি করেছিলেন। কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে সম্প্রতি যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। আখতার হামিদ সিদ্দিকী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি ১৯৯১ থেকে শুরু করে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাকে ২০০১ সালে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করা হয়।
মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি মহাদেবপুরে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮৩টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৭৫ জনের আবেদন সঠিক পাওয়া যায়। তিনজনের নাম লাল মুক্তিবার্তায় থাকায় যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়নি। একজন যাচাইয়ে উপস্থিত হননি। অপর একজনের ব্যাপারে কমিটির সদস্যরা দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বাকি দুজনের নামে অভিযোগ থাকায় আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। এদের মধ্যে একজন লক্ষণপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন ফারুক ও অপরজন উত্তরগ্রামের মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকী।

যাচাই-বাছাইয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটির মধ্যে ছিলেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকার চেয়ারম্যান মনোনীত সভাপতি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান বদি, স্থানীয় এমপির মনোনীত সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম নূরানী আলাল, জেলা প্রশাসকের মনোনীত সদস্য সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসীন আলী সরদার ও সদস্য সচিব ইউএনও।
কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান বদি জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় আলতাফ হোসেনের বয়স কম ছিল। আখতার হামিদ সিদ্দিকী মুক্তিযোদ্ধা নন বলে ছয়জন বীর মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করেছেন।
উপজেলার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসীন আলী সরদার জানান, আখতার হামিদ সিদ্দিকী ডেপুটি স্পিকার থাকাকালে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেন। সে সময় একটি জনসভায় ‘নওগাঁয় কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু নওগাঁর কয়েকটি উপজেলায় সম্মুখযুদ্ধ হয়। এর প্রতিবাদে তখন এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধারা একাধিক সমাবেশ করেন। যাচাই-বাছাইয়ে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আবারও সেই অভিযোগ উত্থাপন করেন।
মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, বিধি অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে। তারাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
আব্বাস আলী/এএইচ/এএসএম