টিউবওয়েলের পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে চুরি!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৩:৫৮ এএম, ২৮ মার্চ ২০২১

গাইবান্ধায় টিউবওয়েলের পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার কয়েকটি টিউবওয়েলের পানি পান করে নারী ও শিশুসহ ৫০ জনের বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের রতবাজার, কুপতলা গ্রামে এবং কিশামত মালিবাড়ি ইউনিয়নের বড়ুয়ারটারি গ্রামে এসব ঘটনা ঘটছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও সবার অসুস্থতার ধরন একই হওয়ায় তারা ধারণা করছেন এটি মলমপার্টির কাজ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু কখন, কিভাবে টিউবওয়েলের পানিতে চেতনানাশক ব্যবহার করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি স্থানীয়রা। চলতি মার্চ মাসে গত কয়েকদিনের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটলে বিষয়টি সামনে আসে।

jagonews24.com

ভুক্তভোগীরা জানান, শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাতের খাবার খাওয়ার পরপরই সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের খোরতবাজার গ্রামের ব্রিটিশ চন্দ্র দাসের পরিবারে ছয়জন, পাশের ফুল মিয়া হাজির বাড়িতে আটজন এবং বড়ুয়ারটারি গ্রামের চন্দন বাবুর বাড়ির পাঁচজন অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় দুই অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তারা বলছেন, রাতের খাবার শেষে টিউবওয়েলের পানি পান করার পর থেকেই তারা অসুস্থতা বোধ করতে থাকেন এবং সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মাথা ব্যথা ও পরে বমি হতে থাকে। এরপর একে একে সবাই অজ্ঞান হয়ে যান। আর সেই সুযোগে চোরেরা ঘরে ঢুকে টাকা-পয়সা, সোনার গহনা চুরি করে নিয়ে গেছেন।

তাদের ধারণা, দিনের বেলায় অথবা রাতের আঁধারে টিউবওয়েলের পানিতে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা অভিনব কায়দায় এই চুরি করছেন।

সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মিন্টু মিয়া বলেন, এ ধরনের ঘটনা এর আগেও কয়েক গ্রামে ঘটেছে। প্রশাসন এই অজ্ঞান পার্টির সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারলে এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা অনেকটা কমে যেত। বর্তমানে এই অজ্ঞান পার্টির ভয়ে অনেকেই টিউবওয়েলের পানি পান করা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি তবুও ঘটনাটির তদন্ত চলমান আছে। তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে কারা, কোন উদ্দেশ্যে এই অপকর্মে জড়িত।

জাহিদ খন্দকার/এমআরআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]