মৌলভীবাজারে সড়ক অবরোধ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৫:১৫ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২১

হরতাল চলাকালে মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা। পরে সেখানে তারা জোহরের নামাজ আদায় করেন। এদিকে জেলার কুলাউড়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২৮ মার্চ) দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কনকপুর এলাকায় কয়েক ঘণ্টা মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সেখানে অবস্থান নেয় পুলিশ।

jagonews24

এর আগে সকালে জুগিডহর এলাকায় হরতালের সমর্থনে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন হেফাজতের কর্মীরা। বিকেলে মৌলভীবাজার টু শ্রীমঙ্গল সড়ক অবরোধ করেন জামেয়া শেখবাড়ি মাদরাসার ছাত্ররা।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দুপুর ১টার দিকে হাজিপুর ইউনিয়নের কটারকোনা বাজার এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

jagonews24

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কটারকোনা বাজার এলাকায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল নিয়ে বের হতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশকে উদ্দেশ করে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশও তাদের আত্মরক্ষায় ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষণ রায় জানান, হরতালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য পুরো উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

jagonews24

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জেলা শহরের প্রধান সড়কগুলোর মোড়ে মোড়ে অবস্থান করছে পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি টহল দিচ্ছে র্যাব। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বড়লেখায় বিক্ষোভ করলে পুলিশ বাধা দেয়।

মাদরাসাছাত্র আব্দুল বারি বলেন, মানুষ স্বেচ্ছায় ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। গাড়ি বের করছেন না। সবার হরতালে সমর্থনে রয়েছে। আমরা মহাসড়ক অবরোধ করেছি। পুলিশ এসে বাধা দেয়নি। আজ সারাদিন আমরা মাঠে থাকব।

এদিকে শহরের কুসুমবাগ এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি সারা শহর প্রদক্ষিণ করে। পরে কুসুমবাগে সমাবেশ হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আহমদ বিল্লালসহ অনেকে।

jagonews24

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, মৌলভীবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কুলাউড়ায় কিছু লোক জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছিল। পুলিশ পরে সেখানে অবস্থা নেয়।

তিনি আরও জানান, সারা জেলায় ৪৫০ জন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশ ও থানাগুলো তো আছেই। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জেলার আন্তঃবাস যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।

এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]