মুক্তিযোদ্ধার সনদ জাল করে ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ১২:৩২ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২১

বগুড়ার শাজাহানপুরে মুক্তিযোদ্ধার সনদ জাল করে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধাসহ ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে হযরত আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

বুধবার দুপুরে শাজাহানপুর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী বলেন, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাটাখালী গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর রহমানের সনদ জাল করে নিজের নামে সনদ তৈরি করে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধাসহ ভাতা ভোগ করে আসছেন একই গ্রামের মৃত গফুর প্রামানিকের ছেলে হযরত আলী।

মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী জানান, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শহীদ হন সারিয়াকান্দি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর রহমান। মৃত্যুর পর তার পরিবারে বাবা, মা, ভাই, বোন ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। সেসময় মানবেতর জীবনযাপন করছিল পরিবারটি। পরিবারটিকে আর্থিক সাহায্য সহযোগিতার প্রলোভন দেখিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র (আতাউল গণি ওসমানী স্বাক্ষরিত) জাল করে নিজ নামে সনদ তৈরি করেন হযরত আলী।

এরপর ১৯৭৩ সালে রক্ষী বাহিনীতে যোগদান করেন তিনি। পরবর্তীতে রক্ষী বাহিনী বিলুপ্তীর পর কৌশলে সেনাবাহিনীর সিগনাল কোরে যোগদান করেন হযরত আলী। সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ মূলে সেনাবাহিনীর বিশেষ গেজেটে নিজেকে শাজাহানপুর বগুড়ার মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। অথচ সারিয়াকান্দি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার স্বপক্ষে কোন সনদ ও দলিল প্রমাণাদি পাওয়া যায়নি।

স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদ ভারতীয় তালিকা বই নং, এফএফ নং, সেক্টর নং, মুক্তি বার্তা নং, গেজেট নং ও ডাটা বেইজের সম্পূর্ণ ভুয়া কাগজপত্র সন্নিবেশিত করে সেনাবাহিনীর বিশেষ গেজেট মূলে বর্তমানে শাজাহানপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধারা দাবি করেন, ১৯৭৩ সালে রক্ষী বাহিনীতে যোগদান করে বেসামরিক গেজেট মূলে মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে সেনাবাহিনীর গেজেট মূলে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা হন এটা বোধগম্য নয়। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অপ্রাসঙ্গিক, মিথ্যা ও ভুয়া। এমতাবস্থায় দুর্নীতিবাজ, প্রতারক হযরত আলীসহ যে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সালের পরে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হয়ে সেনা গেজেট মূলে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন সেই সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে যাচাই-বাছেইয়ের আওতায় আনার দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধারা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গৌরগোপাল গোস্বামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, হাবিবর রহমান, আমজাদ হোসেন, বছির হোসেন, এএসএম মুসা, হরিপদ দাস, সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুল হালিম, ইব্রাহীম হোসেন প্রমুখ।

এ বিষয়ে হযরত আলীর সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এফএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]