৫ বছর বয়সী মেয়েই জানাল, মাকে খুন করেন বাবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৬:৫০ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২১

চারমাস পর নীলফামারীর সংগলশী ইউনিয়নের শিমুলতলীতে মারা যাওয়া রোজিনা আকতার (২৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গলা টিপে তাকে হত্যা করেন তার স্বামী স্বামী ইউনুস আলী (৩৮)। এ মামলায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে ঘটনার সময় ঘরে থাকা পাঁচ বছর বয়সী শিশু মারিয়া।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) সাংবাদিকদের এতথ্য জানায় পুলিশ।

হত্যার শিকার রোজিনা সৈয়দপুর উপজেলা শহরের ঢেলাপীড় উত্তরা আবাসন এলাকার দুলাল হোসেনের মেয়ে। গ্রেফতার ইউনুস আলী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের কাদিখোল এলাকার মৃত নাজির উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ২০১৬ সালে ইউনুস দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন রোজিনা আকতারকে। তারা শিমুলতলী এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ইউনুসের শ্যালক রাকিবুল ও তার স্ত্রী সিমরান। ঘটনার দিন শ্যালক ও তার স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে রোজিনাকে গলাটিপে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন ইউনুস। এসময় ঘরে ১০ মাস বয়সী আয়েশা সিদ্দিকা ও পাঁচ বছর বয়সী মারিয়া অবস্থান করছিল। মারিয়াকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরের দরজায় তালা দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান ইউনুস।

নীলফামারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ-উন-নবী জানান, ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর শিমুলতলীর ভাড়া বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা হলেও ময়নাতদন্তে ‘হত্যাকাণ্ডের’ বিষয়টি উঠে আসে। গত ২৩ মার্চ রোজিনার বাবা নীলফামারী থানায় মামলা করেন। নীলফামারী থানার চৌকস একটি টিম রহস্য উদঘাটন শুরু করে। এক পর্যায়ে ঘটনার সময় ঘরে থাকা পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মারিয়া পুলিশের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে।

নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ বলেন, ইউনুসের প্রথম স্ত্রী রয়েছেন। এরই মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন রোজিনাকে। তাদের প্রায়ই কলহ হতো। ঘটনার দিন স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন ইউনুস।স্ত্রীকে হত্যা করে ঘরে শিশুদের রেখে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বাইরে যান। পথে শ্যালক ও তার স্ত্রীকে জানান, রোজিনা ঘুমিয়ে আছে। পরে তারা বাড়িতে ফিরে ডাকাডাকি শুরু করেন এবং সিলিং ফ্যানে লাশ ঝুলতে দেখেন।

ইউনুসকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয় এবং তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

জাহেদুল ইসলাম/এসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]