৯৯৯-এ ফোন, ৬ ঘণ্টার মধ্যে অপহৃত ব্যক্তি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৬:২০ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২১

বগুড়ায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার ছয় ঘণ্টার মাথায় আবু জামান খন্দকার ওরফে আরজু (৪৮) নামের অপহৃত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে শেরপুর থানা পুলিশ। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ বগুড়া গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

উদ্ধার হওয়া আবু জামান উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের সদর হাঁসড়া গ্রামের বাসিন্দা ও একইগ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে।

বিকেল ৪টায় এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা যায়, সদরের হাঁসড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের পাঁচ বিঘা ফসলি জমির মাটি কাটছেন পাশের ভবানীপুর ইউনিয়নের মাটি ও বালু ব্যবসায়ী জহুরুল হক। অসংখ্য ড্রাম ট্রাকে এসব মাটি পরিবহনের কারণে গ্রামের সড়ক বেহাল হয়ে পড়ে।

এতে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারি কমিশনারের (ভূমি) কাছে বিষয়টি মোখিকভাবে অভিযোগ করেন।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) রাত ১১টায় ওইসব ফসলি জমি থেকে মাটিকাটা শুরু করলে স্থানীয় এলাকাবাসী বাধা দেয়।

স্থানীয়দের বাধার মুখে একপর্যায়ে মাটিকাটা বন্ধ করে মাটি ও বালু দস্যুরা চলে গেলেও গ্রামবাসীদের মধ্যে জামাল খন্দকার ওরফে আরজুকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে চরম বাগ-বিতণ্ডা হয়।

এর জেরে শুক্রবার (৯ এপ্রিল) ভোরে স্থানীয় একটি ইটভাটায় যাওয়ার পথে জামাল খন্দকারকে অপহরণ করেন মাটিদস্যু জহুরুল হক ও তার লোকজন। সেইসঙ্গে মারপিট করে তাকে খোর্দ্দবগুড়া গ্রামস্থ বসতবাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এছাড়া তার পরিবারের নিকট মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

এরপর ঘটনাটি জানতে পেরে গ্রাম্য মাতব্বর মুকুল হোসেন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সব তথ্য দেন। এরপর অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারে অভিযানে নামে পুলিশ।

ভুক্তভোগী জামাল খন্দকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছিল মাটিদস্যু জহুরুল বাহিনীর সদস্যরা। এজন্য তাকে বেধড়ক মারপিটও করা হয়। মুক্তিপণ হিসেবে প্রায় ৬৫ হাজার টাকাও লুটে নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এরপরও তাকে প্রাণনাশের পরিকল্পনা করা হয়। সময়মতো পুলিশ না এলে তাকে মেরে লাশ গুম করে ফেলা হতো বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে অভিযুক্ত জহরুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ফসলি জমির মাটিকাটা নিয়ে জামাল খন্দকার ও গ্রামের কিছু লোকের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএমএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।