সিলেটে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৫:১৩ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২১

ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষে সিলেটে সফলতা আসায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন স্থানে এরইমধ্যে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে কৃষক পুকুর কিংবা বিলে কচুরিপানা পচিয়ে বেড তৈরি করে এর ওপর নানা জাতের সবজি চাষ করছেন। এ পদ্ধতিতে আবাদকৃত সবজির ফলনও ভালো হচ্ছে।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ভাসমান সবজি চাষে স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি কারিগরি সহায়তাও প্রদান করছে। সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সবজি ও মসলা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সিলেটের বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলার কৃষকরা এগিয়ে এসেছেন। এর মাধ্যমে তারা পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) সূত্রে জানা যায়, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ সিলেটের ব্যবস্থাপনায় ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ভাসমান বেডে কৃষকদের সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষকদের সব ধরণের কলাকৌশলের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং চাষাবাদ প্রক্রিয়া হাতে কলমে শেখানো হয়। সবকিছু জেনে নেয়ার পর কৃষকরা ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ শুরু করেন।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রূপশাল গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন গত তিন বছর যাবত এই পদ্ধতিতে সবজি ও মসলা চাষে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তার ভাসমান বেডে গিয়ে দেখা যায়, তিনি তাতে চাষ করছেন টমেটো, বেগুন, কাচা মরিচ, লাল শাক, কলমি শাক, ঢ্যাঁড়স, বরবটি, লাউ ও সিম। তার চাষ দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘২০ ফুট গভীর পানির ওপর ভাসমান বেড করা খুবই কষ্টসাধ্য। কষ্ট হলেও আমি সাফল্য পেয়েছি। বাজারে এই বেডের সবজির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আগামীতে আরও বেশি বেড তৈরি করে সবজি চাষ করব।’

রূপশাল গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম জানান, এ পদ্ধতিতে একই বেডে এক সবজির পর অন্য সবজি চাষ করা যায়। সবজি খেতে স্বাদ বলে বাজারের অন্য সাধারণ সবজির চেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। এছাড়া খরচও কম। ফলে বেশি দামে বিক্রি করা যায়।

ভাসমান বেডের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত বৈজ্ঞানিক সহকারী রায়হান বলেন, ‘একজনের সফলতা দেখে অন্যজন একি রকম চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এখন পর্যন্ত সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রূপশাল এবং ফেঞ্চুগঞ্জের কটালপুর গ্রামে প্রাথমিকভাবে বিনামূল্যে তৈরি ১৫০টি বেডের মাধ্যমে এসব এলাকায় সবজি ও মসলা উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদিত চাষে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার লাগে না। ফলে সবজির গুনগত মান ও স্বাদ অক্ষুণ্ন থাকে।’

সরেজমিন গবেষণা বিভাগ (বারি) সিলেটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল বলেন, ‘সিলেটের অনেক পুকুর এবং খাল-বিল প্রায় সারা বছরই পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এসব জায়গায় ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে এর ঘাটতি পূরণসহ আর্থিকভাবে লাভবান হবেন কৃষকরা। সিলেট অঞ্চলে এখনো সবজির প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। তাই সিলেটে ভাসমান বেডে পানির স্বল্প খরচে সবজি চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে আর্থিকভাবেও কৃষকরা লাভবান হতে পারেন।’

ছামির মাহমুদ/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]