আ.লীগের কমিটিতে বিএনপি-জামায়াতের পাঁচ নেতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ১২:৫৮ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২১

আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ পেয়েছেন বিএনপি জামায়াতের নেতারা। এমনকি বিএনপির একজন ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটিতে সদস্য পদও পেয়েছেন। বিএনপি জামায়াতের এমন ৫ জন কমিটিতে স্থান পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনার ঝড়।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ দলের ত্যাগী এবং পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর। সেসময় সংগঠনের জেলা কমিটির নেতারা সভাপতি পদে বদরুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মাসুক আহমদের নাম ঘোষণা করে দুজনের কমিটি গঠন করেন। এর প্রায় দেড় বছর পর ৯ এপ্রিল ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ পায়।

তবে কমিটিতে তারিখ দেওয়া আছে পেছনের সম্মেলনের তারিখ। ৯ এপ্রিল কমিটি প্রকাশের পর থেকে এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলেন, বর্তমান কমিটির কিছু নেতা আগে বিএনপি-জামায়াতের কমিটিতে ছিলেন, গত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট, রাজাকারপুত্র, বিএনপির বর্তমান বিভিন্ন কমিটির দায়িত্বশীল নেতাও আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। আর বাদ পড়েছেন দলের প্রবীণ ও ত্যাগী কর্মীরা।

তাদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে প্রবীণদের কমিটিতে রাখলেও তারা অভিযোগ করছেন সম্মানজনক পদ পাননি। কোনোদিন রাজনীতি না করেও বড় পদে স্থান পেয়েছেন বিতর্কিতরা।

এসব আলোচনার পাশাপাশি কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের স্থান পাওয়ার প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন কাগজের কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থান পেয়েছে।

এসব কপি এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ৭১ সদস্যের কমিটিতে সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত এমন রয়েছেন চারজন। জামায়াতের আছেন একজন।

কমিটি গঠনে রয়েছে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও। বর্তমান কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেনের স্ত্রী শাহানা চৌধুরীকে একই কমিটির শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক ও ভাতিজা সাবেক যুবদল নেতা জাহেদ হোসেন তাজিনকে সদস্য করা হয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক মাসুক আহমদের স্ত্রী শিরিন আক্তারকে করা হয়েছে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং স্ত্রীর বড় ভাই শাহীন আহমদকে করা হয়েছে সদস্য। তিনি ছাত্রজীবনে সরাসরি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও জানা যায়, একই কমিটিতে আরেকজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন, যার বাবার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ আছে এবং এলাকায় রাজাকারপুত্র হিসেবে তিনি পরিচিত।

এক সময়ের ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে ব্রাজিল প্রবাসী মাসুদ রানা চৌধুরী বলেন, ৯০ দশকে জাতির পিতার আদর্শ ও আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যাদের হামলার শিকার হতাম, যারা তখন রক্তাক্ত করেছিল তারা এখন জুড়ী আওয়ামী লীগের কমিটিতে। কিন্তু যারা আওয়ামী লীগের জন্য রক্ত দিয়েছিল তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি।

পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সাবেক সভাপতি গোপিকা অধিকারী বলেন, ১৯৬৩ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম। অথচ জীবনের শেষ সময় আমাকে সদস্যও করা হয়নি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কাউন্সিলের সময় ভোট না দিয়ে সিন্ডিকেট কমিটি করা হয়েছে। সেই সময় ভোট দিলে আমি ১২ আনা ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক হতাম। সেই গ্রুপিংয়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আমাকে ২ নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। অথচ আমার কর্মীদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ অনেককে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেয়া হয়েছে। ভাবছি রাজনীতি ছেড়ে দেব, দল বিরোধী দলে গেলে আবার রাজনীতি করব।

তিনি বলেন, পুরো কমিটি সিন্ডিকেট করে করা হয়েছে। সভাপতির আত্মীয়-স্বজন ১১ জন এবং সাধারণ সম্পাদকের আত্মীয়-স্বজন চারজনকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এমনকি রাজাকারের ছেলেকেও স্থান দেওয়া হয়েছে তিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদের একটিতে।

মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান বলেন, উপজেলা থেকে যে তালিকা দেয়া হয়েছে সেই তালিকা অনুযায়ী আমরা কমিটির অনুমোদন দিয়েছি। বিএনপি-জামায়াতের কেউ থাকলে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আহমদ হোসেন বলেন, যেহেতু জুড়ী উপজেলার কমিটি হয়েছে সে কারণে আমার জানা নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]