বাবা দিনমজুর, ছেলের মেডিকেলে ভর্তির খরচ দিলেন জেলা প্রশাসক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০১:৩৯ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২১

জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও ভর্তির খরচ যোগাতে না পেরে শঙ্কিত ছিলেন নোয়াখালীর মো. মিরাজ।

ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ১০০ নম্বরের মধ্যে ৬৯.৫ নম্বর পেয়েছেন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় তার মেধাক্রম ৩৭৯৫তম।

দিনমজুর বাবার অভাবের সংসারে তার মেডিকেলে পড়া হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন নোয়াখালী সদরের দক্ষিণ চরশুল্লাকিয়া গ্রামের চাঁদ মিয়া বাড়ির মো. ফিরোজ ও মালেকা বেগম দম্পতির মেধাবী ছেলে মো. মিরাজ।

অবশেষে খবর পেয়ে মো. মিরাজের মেডিকেলে ভর্তির দায়িত্ব নিয়েছেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান।

সোমবার (১২ এপ্রিল) মো. মিরাজ ও তার পরিবারের হাতে মেডিকেলে ভর্তির জন্য ৩৫ হাজার নগদ টাকা তুলে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান।

তিনি বলেন, আমি মানবিক বিষয়টি বিবেচনা করে মিরাজের মেডিকেলে ভর্তি ও পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছি। তাদের আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত জেনে নিজ উদ্যোগে মিরাজের পরিবারের হাতে ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছি।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমি দোয়া করি মিরাজ একদিন মানবিক ডাক্তার হয়ে দেশের অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবে। ভবিষ্যতেও মিরাজের মেডিকেলে পড়াশোনায় আর্থিক সহায়তা করব। এ সময় তিনি সরকারি প্রকল্পের আওতায় মিরাজের মাকে গাভী কিনে দেয়ারও আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, মো. ফিরোজ উদ্দিন ও মালেকা বেগমের দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান মো. মিরাজ। তার বাবা ইটভাটায় দিনমজুরের কাজ করেন। দিনশেষে যা রোজগার, তা দিয়েই চলে সংসার। মিরাজের মা মালেকা বেগম গৃহিণী। তার বড় ভাই রিয়াজ উদ্দিন পড়ালেখার পাশাপাশি টিউশনি করে চালাচ্ছেন তার পড়ালেখার খরচ।

মো. মিরাজ বলেন, আমি মেডিকেলে ভর্তি নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। এখন আমার ভর্তির চিন্তা কেটেছে। আল্লাহর দুনিয়ায় ভালো মানুষের অভাব নেই। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান স্যার আমার মেডিকেলে ভর্তি ফি ও বইপত্রের খরচ হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। আমি উনার কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন ভবিষ্যতেও আমার পড়াশোনায় আর্থিক সহযোগিতা করবেন।

এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]