বাস বন্ধ তাই ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে চলছে মাইক্রোবাস

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২১

মহামারি করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধির থোড়াই কেয়ার করে গাদাগাদি যাত্রী নিয়ে সাতক্ষীরা-খুলনা রুটে চলাচল করছে মাইক্রোবাস। সাতক্ষীরা পোস্ট অফিস মোড় থেকে ভোর ৬টায় শুরু করে সন্ধ্যা অবধি চলে যাত্রী উঠা-নামা। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কাজ চললেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেউ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে সকাল থেকেই শুরু হয় খুলনাগামী যাত্রীদের আনাগোনা। সকাল সাড়ে ৬টায় প্রথম মাইক্রোবাসটি ছাড়ে। দশ সিটের মাইক্রোবাসে তোলা হয় ১৪-১৫ যাত্রী। ভাড়া নেয়া হয় ২০০ টাকা। করোনার কারণে জেলায় বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও থেমে নেই পোস্ট অফিস মোড়ের মাইক্রোবাস। সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১১২টা পর্যন্ত আধাঘণ্টা পর পর খুলনাগামী যাত্রী বহন করা হয়। বারো থেকে চৌদ্দটি মাইক্রোবাস এভাবেই প্রতিদিন খুলনা যাতায়াত করে। দুপুরের পর খুলনার শিববাড়ি মোড় থেকে আবারো শুরু হয় সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসার পালা। বিকেল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত চলে সাতক্ষীরাগামী যাত্রীদের উঠানো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাস মালিক জানান, মিনি বাসের মত মাইক্রোবাসে যাত্রী বহন কোনোভাবেই বৈধ নয়। কারণ সরকারি রাস্তা ব্যবহার করতে গণপরিবহনের রুট পারমিটসহ আনুসঙ্গিক অনেক কিছুর অনুমতি লাগে। এছাড়া করোনার সময় গাদাগাদি করে যাত্রী নেয়া প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যে কীভাবে সম্ভব-প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সাতক্ষীরা-বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ আবু নাসের জানান, একটি বাস রাস্তায় নামাতে রুট পারমিট বাবদ প্রতিবছর ৯০০ থেকে সাড়ে আট হাজার টাকা ট্যাক্স, পাঁচ হাজার টাকা আয়কর ও ফিটনেস বাবদ ১৭০০ টাকা দিতে হয়। অথচ কোনো অনুমোদন ছাড়াই পোস্ট অফিস মোড় থেকে প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক মাইক্রোবাস যাত্রী নিয়ে খুলনা যাতায়াত করছে।

jagonews24

অনিয়ম করে মাইক্রোবাস কীভাবে চলছে মোবাইলে প্রশ্ন করলে মাইক্রোবাস পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাহেন্দ্র যেভাবে গাদাগাদি করে যাত্রীবহন করছে সেদিকে তাকান না কেন? করোনা মহামারির মধ্যে গাদাগাদি করে যাত্রীবহন করা হচ্ছে-এমন প্রশ্নে সংযোগ কেটে দেন জাহাঙ্গীর।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান বকুল বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের অবৈধ মাইক্রোবাস পরিচালনার বিষয়ে এসপি স্যারের নির্দেশনা পেয়েছি। ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাতক্ষীরা জেলা বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা সমম্বয় কমিটির সভায় খুলনাগামী ভিসাপ্রার্থীদের নিয়ে দুটা মাইক্রোবাস চালানোর অনুমতি ছিল। তবে এখন সাতক্ষীরায় ভিসা সেন্টার চালু হয়েছে। ফলে ওই অনুমোদনের কোনো বৈধতা নেই।

পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনার সময় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। অবৈধভাবে কোনোকিছু পরিচালনার সুযোগ নেই। বিষয়টি দেখা হবে।

জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, সরকারি নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কাউকেই চলতে দেয়া হবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীদের সংক্রমণ নিরোধ আইন অনুযায়ী সাজা দেয়া হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা সমম্বয় কমিটির সভায় খুলনাগামী ভিসাপ্রার্থী যাত্রীদের নিয়ে দুইটা মাইক্রোবাস চালানোর অনুমতি ছিল কিনা জানা নেই বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক।

আহসানুর রহমান রাজীব/এএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]