‘জীবিত’ থাকতেও সহিদা বেগমকে মেরে ফেলল কে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৮:৪৪ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০২১

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার বাসিন্দা সহিদা বেগম (৪৮)। স্বামী মারা গেছেন এক যুগ আগে। তিনি ছিলেন ভূমি অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। স্বামীর মৃত্যুর পর অবসরভাতা উত্তোলন করে কোনো রকমে সংসার চলছিল সহিদা বেগমের। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির কারণে আজ তিনি ‘মৃত’।

‘জীবিত’ থেকেও ‘মৃত’ বলে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রায় ১৪ মাস ধরে স্বামীর অবসরভাতা উত্তোলন করতে পারছেন না তিনি। এমনকি ভোট দেয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এই বৃদ্ধা।

এখন নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে দফতরে দফতরে ধরনা দিচ্ছেন জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের নান্দেড়াই গ্রামের ভূমি অফিসের চতুর্থ শ্রেণির অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মৃত ফজির উদ্দিন ইসহাকের স্ত্রী সহিদা বেগম।

উপজেলা নির্বাচন অফিসে ছয়মাস ধরে ঘুরেও কোনো লাভ হয়নি সহিদা বেগমের। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম না আমাকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম কর্তন করা হয়েছে। স্বামীর অবসরভাতা তুলতে ব্যাংকে গিয়ে শুনি যে, আমার নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেয়া হয়েছে। আমি নাকি ‘মৃত’।’

jagonews24

তিনি বলেন, ‘আমি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছি। আমাকে কেন মৃত হিসেবে ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তন করা হলো তার বিচার চাই। কে আমাকে মেরে ফেলেছে, এ বিষয়ে তদন্ত করা হোক।’

জানতে চাইলে আব্দুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আলহাজ ময়েন উদ্দিন শাহ বলেন, ‘ওই মহিলার নাম ভোটার তালিকায় ভুলবশত কর্তন করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জীবিত ও সুস্থ আছেন। ওই মহিলাকে জীবিত থাকার একটি চলতি বছরের প্রত্যায়নপত্র দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাকে সব ধরনের সহায়তা দিতে চাই। যাতে করে দ্রুত তিনি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল মালেক জানান, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি ভোটার তালিকায় ওই মহিলার নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ঢাকা আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বরাবরে পত্র দেয়া হয়েছে। এখনও কোনো রিপ্লাই আসেনি। তবে খুব শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান করা হবে।’

এমদাদুল হক মিলন/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]