পাহাড়ি জনপদে ঐক্যের প্রতীক গোমতি বাজার শাহী জামে মসজিদ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ এএম, ২১ এপ্রিল ২০২১

মুসলিমদের ইবাদতের বড় জায়গা মসজিদ। যুগ যুগ ধরে ‘আল্লাহর ঘর’ মসজিদ ঘিরেই মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগি করে আসছেন। আর তাই প্রতিষ্ঠার প্রায় ৬০ বছরে আবেগ-অনুভূতির পাশাপাশি সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে গোমতি বাজার শাহী জামে মসজিদ।

জানা গেছে, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতিতে ১৯৬৫ সালে ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান স্থানীয়দের সহযোগিতায় গড়ে তোলেন গোমতি বাজার শাহী জামে মসজিদ। মসজিদ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এ মসজিদে ৮-৯ বছর ইমামতিও করেন তিনি। তখন ৮-১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মসজিদ না থাকায় বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরি করা ছোট্ট মসজিদকে ঘিরেই ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করতেন স্বাধীনতাপূর্ব গোমতি, আমতলী, বেলছড়ির ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। সেসময় অবিভক্ত এ পাহাড়ি জনপদে একমাত্র মসজিদ ছিল গোমতি বাজার শাহী জামে মসজিদ।

jagonews24

স্বাধীনতার পরে জনবসতি বাড়ার পাশাপাশি গড়ে ওঠে নতুন সমাজ ব্যবস্থা। সময়ের ব্যবধানে বদলে যায় মসজিদের অবয়ব। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য আর ৬৫ ফুট প্রস্থের পাকা দালান হয় মসজিদটিতে। মসজিদের মেঝে আর দেয়ালে লাগানো হয়েছে ধবধবে সাদা দামী টাইলস। ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্তে ৪-৫শ মুসল্লি নামাজ পড়েন এ মসজিদে। শুক্রবার জুমার নামাজে প্রায় দেড় হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

গোমতি বাজার শাহী জামে মসজিদ নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেন গোমতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন লিটন। তিনি বলেন, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে অনেক কিছুতে পরিবর্তন এলেও এ মসজিদকে ঘিরে মানুষের ঐক্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পিছিয়ে পড়া জনপদে গোমতির ১৯টি পাড়ার মানুষের ঐক্যের প্রতীক এ মসজিদটি।

jagonews24

গোমতি বাজার শাহী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মনির হোসেন বলেন, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মসজিদটির সাথে গোমতির ১৯ পাড়ার মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে। আশেপাশের ইউনিয়নের কয়েক গ্রামের মানুষ এখানে জুমার নামাজ পড়তে আসেন।

তিনি বলেন, এক একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদের পাশেই রয়েছে পুকুর। মসজিদের সামনে রয়েছে মার্কেট। মার্কেটের দোকান ভাড়া আর জুমার দিন মুসল্লিদের কাছ থেকে পাওয়া দান দিয়েই চলে মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেমের বেতনসহ যাবতীয় খরচ। তবে মসজিদের যেকোনো উন্নয়ন কাজে হাত খুলে দান করেন স্থানীয়রা।

jagonews24

শুধুমাত্র সামাজিক ঐক্যই নয়, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এ মসজিদে। এমনটাই বলছেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের ১২-১৩ বছরের কিশোর বর্তমানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব আলী মেম্বার।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মোনাজাত চলছিল। ঠিক তখনই মসজিদের পাশ থেকে গুলি চালায় পাকবাহিনী। আর সেখানেই মোনাজাতরত অবস্থায় রমিজ উদ্দিন নামে এক মুসল্লি নিহত হন। নামাজ থেকে বের হওয়ার পর পাক বাহিনীর গুলিতে নিহত হন আমতলী এলাকার এক গরু ব্যাবসায়ী।

গোমতি বাজার শাহী জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মো. শামীম হোসাইন ফারুকী বলেন, এখানকার মানুষ খুবই ধর্মভীরু। এ মসজিদকে ঘিরে সৌহার্দ্য আর ঐক্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এখানকার ধর্মপ্রাণ মানুষ। যা গোমতিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এফএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]