বাঁশখালীতে পুলিশের গুলিতে নিহত রাজিউরের দাফন সম্পন্ন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৩:৫৯ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২১

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভে নিহত রাজিউর রহমানের (২২) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় ফুলবাড়ী উপজেলার বেতদিঘি ইউনিয়নের জামাদানি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত রাজিউর রহমান ওই গ্রামের আব্দুল মান্নান মণ্ডলের ছেলে। সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের পার্ক ভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে রাতে হতের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেলে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। তাকে এক নজর দেখতে ছুটে আসেন এলাকার শত শত মানুষ।

নিহতের বাবা আব্দুল মান্নান মণ্ডল ও মা ওয়াজীবন বেগম জানান, পারিবারিক অর্থ-কষ্টের জন্য ছোট ছেলে রাজিউল ইসলাম (২২) গত ছয় মাস আগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী কয়লাভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্রে শ্রমিকের চাকরি নেন। সেখানে কাজ করতে গিয়ে নানা দুর্ভোগের কথা রাজিউল সব সময় ফোনে বলতো। বেতন-ভাতা প্রদানসহ নানা অনিয়মে মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের অসন্তোষ চলছেও বলে জানায় সে।

আব্দুল মান্নান মণ্ডল বলেন, কি দোষ ছিল আমার ছেলের? বেতন-ভাতা দাবির কথা বলায় আমার ছেলেকে ওরা গুলি করে মেরে ফেলল! গুলি খেয়ে দীর্ঘক্ষণ পরে ছিল আমার ছেলে। তাকে প্রথমে হাসপাতালে নিতে দেয়া নি। পরে বন্ধুরা ঝুঁকি নিয়ে তাকে প্রথমে বাঁশখালি হাসপাতালে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে চট্টগ্রামের পার্ক ভিউতে নেয়া হয়।

এর আগে ১৭ এপ্রিল (শনিবার) এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার লিমিটেড ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে চট্টোগ্রাম বাঁশখালীতে স্থাপিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। এসময় পুলিশ গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হন। ওইদিন পাঁচ শ্রমিক মারা যান। পরে সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজিউর রহমান নামে আরেক শ্রমিক চট্টগ্রামের পার্ক ভিউ হাসপাতালে মারা যান।

এমদাদুল হক মিলন/আরএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]